‘আমরা ‘মা দিবস’ অনেক বেশি উদ্‌যাপন করি, এক্ষেত্রে এখনও খানিক পিছিয়ে বাবারা!’ পিতৃ দিবসে বাবাকে ভালবেসে জয়জিৎ পুত্র যশোজিৎ!

মা শব্দটা যেমন সন্তানদের কাছে অনেক আদরের তেমনই বাবা শব্দটা সন্তানদের কাছে বেশ কিছুটা ভয়ের। বাবা মানেই রাগী, রাশভারী এক ছবি বাচ্চাদের সামনে ভেসে ওঠে। তবে, সেই গম্ভীর লোকটার পিছনেই যে একটা কোমল মনের মানুষ লুকিয়ে রয়েছে তা অনেকেই বোঝে না। সেই মানুষটাই বট গাছের মতো হয়ে ওঠে তাঁদের সন্তানদের জীবনে। আজ পিতৃ দিবস (Father’s Day)। আর, বিশেষ দিনটাকে আরও বিশেষ করে তুলতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পারিবারিক ছবি পোস্ট করে নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করেছে টলি (Tollywood) অভিনেতা জয়জিৎয়ের (Joyjit Bandopadhyay) ছেলে যশোজিৎ।

পুত্র যশোজিৎ জানায়, ছোটবেলা থেকেই সে দেখেছে তার বাবাকে টেলিভিশনে। সিনেমার কখনো অমরেশপুরীকে উদাহরণ টেনে আবার কখনও ইরফান খানকে উদাহরণ টেনে জয়জিৎয়ের ছেলে বলে, তাঁর বাবাও তাঁকে সমাজের কোনো প্রতিবন্ধকতার আঁচ তার ওপরে আসতে দেয়নি। একেবারে ছোটো থেকেই বন্ধুর মতো মিশেছে।

বাবার ভালো এবং খারাপ গুণ তুলেই জয়জিৎয়ের ছেলে জানায়, ‘বড্ড ঠোটকাঁটা, আবার তেমনই মিশুকে।’ আবার নিজের ভাবনা প্রকাশ করেও বলে, ‘মাঝে মাঝে ভাবি ইশ্! আমি যদি একটু বাবার মতো হতে পারতাম।’ যশোজিৎ নিজে থেকেই বলে তাঁদের বাবা-ছেলের মধ্যে অনেক মিল-অমিল রয়েছে।

জয়জিৎ যেমন স্পষ্ট কথা সোজাভাবে বলতে পারে তেমন অন্যদিকে আবার যশোজিৎ একটু চাপা স্বভাবের। তবে, কথায় কথায় জানায় সে খুব একটা ‘পিতৃ দিবস’ উদযাপনে বিশ্বাসী নয়। স্মৃতি মধুর কথা বলতে গিয়ে যশোজিৎ জানায়, তাঁরা দুজনেই অগোছালো। যখনই ইচ্ছা ঘুরতে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে।

তবে ইতি অগোছালো পুরুষের সমস্যা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই জয়জিৎ পত্নীর। এই সবকিছুর মাঝে যশোজিৎ জানায়, তাঁর ছোটবেলা থেকেই জয়জিৎ ব্যস্ত থাকত কিন্তু তা বলে ছেলেকে সময় দিতে একটুও কার্পণ্য করেনি যশোজিৎয়ের বাবা। সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে গল্পের বই কেনা সবটাই হয়েছে বাবার হাত ধরে।

এখন ছেলে অবশ্য বড়ো হয়েছে। তাই, ছেলের কখনো প্রেমিকা হলেও সঙ্গী সেই বাবা’ই। এই বিষয়ে যশোজিৎ বলে, ‘বাবা কিন্তু জানে, এখন সামনে একগুচ্ছ পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপ। এ সব ভাবার সময় নেই!’ কথায় কথায় পুত্র আরও বলে, ‘আমরা ‘মা দিবস’ অনেক বেশি উদ্‌যাপন করি। সেটা ভালই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখনও খানিক পিছিয়ে বাবারা।’

মজার ছলে যশোজিৎ বলে, ছোটবেলায় সে অনেক বার বাবার জন্য বিপদে পড়েছে। তার বাবা যেহেতু নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করত তাই ফুলের বন্ধুরা তাকে বৈধ তার বাবাকে একটু ভালো চরিত্রে কাজ করার কথা বলতে। অবশেষে নানা কথায় নিজে থেকেই যশোজিৎ বাবা-মায়ের দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রসঙ্গ তুলে বলে ২১ বছরের বিবাহিত জীবন ওদের। তবে, ইদানিংকালে তাদের এই বৈবাহিক জীবন নিয়ে অনেক বিতর্ক ঘুরে বেড়াচ্ছে সমালোচকদের মধ্যে।

কিন্তু, জয়জিৎয়ের যোগ্য পুত্র এক লহমায় সকল সমালোচকদের যোগ্য উত্তর দিয়ে বলে, তাদের তিনজনের পরস্পরের মধ্যে একটা বিশ্বাস রয়েছে, যা কেউ ভাঙতে পারবে না। এছাড়াও পারিবারিক ছবি পোস্ট করে তাদেরকে বোঝাতে হবে না যে তারা একসঙ্গে রয়েছে। পোস্টের শেষে যশোজিৎ বলে ‘বাবা আমার ‘রোল মডেল’ নয়, বাবা আমার বন্ধু।’