সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার রুবি সংলগ্ন বহুতল আবাসন আরবানায় আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় চারদিকে। খবর মিলতেই আবাসিকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আতঙ্ক। এই বহুতলের চতুর্থ টাওয়ারের পাঁচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা যায়। ঘটনাচক্রে এই টাওয়ারেই বসবাস করেন বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ, যার মধ্যে রয়েছেন পায়েল সরকার ও লহমা ভট্টাচার্য। হঠাৎ আগুন আর ঘন ধোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে, ফলে সবাই দ্রুত নীচে নেমে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পায়েল জানান, প্রথমদিকে কেউই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। রান্নাঘরের বাইরে অস্বাভাবিক ধোঁয়া দেখতে পেয়ে রান্নার কর্মী তাঁকে সতর্ক করেন। এরপর আর দেরি না করে তিনি দ্রুত নীচে নেমে আসেন। ততক্ষণে চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে, পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছিল। হঠাৎ এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। এমনকি প্রথম মুহূর্তে দমকলকে খবর দেওয়ার কথাও কারও মনে আসেনি। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অন্যদিকে এই ঘটনায় ভয় পেয়ে যান লহমাও। তিনি তাঁর মা বাবাকে নিয়ে থাকেন ৩০ তলায়, ফলে নীচে নামতে বেশ সময় লেগে যায়। তাঁর কথায়, আচমকা চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, করিডরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, চারদিকে শুধু ঘন ধোঁয়ার স্তর। এত উঁচু তলা থেকে দ্রুত নেমে আসার সময় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেক বাসিন্দাই তাড়াহুড়োয় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, কেউ কেউ আবার একে অপরকে সাহায্য করে নীচে নামেন।
কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে, পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সেখান থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দমকলের প্রাথমিক তদন্তে আগুনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চশমা না পরলে ‘নগ্ন’ বোধ করি! চশমা প্রীতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোন কারণ? জানালেন জন ভট্টাচার্য!
সবচেয়ে বড় কথা, এত বড় দুর্ঘটনার মাঝেও কোনও প্রাণহানি হয়নি, এটাই স্বস্তির খবর। আতঙ্কে ভরা সেই মুহূর্ত পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছেন বাসিন্দারা। অভিনেত্রীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা নিরাপদে আছেন। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, বহুতলে বসবাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সেই মুহূর্তের ভয় আর উদ্বেগ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই।





