উত্তম কুমারের ভবানীপুরের বাড়ির লক্ষ্মীপুজো খুব বিখ্যাত ছিল। সে সময় টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা হাজির হতেন সেই পুজোয়। এমনকি মহানায়ক নিজেও কোমর বেঁধে সব আয়োজন করতেন। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, ভবানীপুর নয়, ময়রাস্ট্রিটের বাড়িতে শুরু হয়েছিল আরেকটি পুজো, যা নিয়ে এখনো টলিউডের মহলে গল্প শোনা যায়। আর সেই পুজো হল মহানায়কের গণেশ চতুর্থী।
হিন্দি সিনেমায় বিশেষ সাফল্য না পেলেও মুম্বইয়ে কাটানো সময় উত্তম কুমারের জীবনে ছাপ ফেলেছিল অন্যভাবে। সেখানকার জমকালো গণেশ উৎসব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। এমনকি রাজ কাপুরের বাড়ির গৃহপুজোয় যোগ দিয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন উৎসবের ধুমধাম দেখে। অনেকে বলেন, সেই সময় থেকেই উত্তমের মনে বীজ বোনা হয়েছিল গণেশ পুজোর। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলেন, আসল প্রেরণা এসেছিল এক রাতে দেখা এক স্বপ্ন থেকে।
ষাটের দশকের এক ভোরে ঘুম ভেঙে উত্তম হঠাৎ জানালেন স্ত্রী সুপ্রিয়াকে, তিনি স্বপ্নে গণেশ পুজো দেখেছেন। সেই স্বপ্নই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। ময়রাস্ট্রিটের বাড়ির ঠাকুর ঘরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন গণেশ মূর্তি। কোনো পুরোহিত নয়, প্রতিদিন নিজেই করতেন পূজা। হাওড়ার ফুলবাজার থেকে আসত পদ্ম আর জুঁই, সতীশ ময়রার দোকান থেকে পৌঁছে যেত বিশেষ মোদক। স্বপ্নে যেভাবে তিনি গণেশকে দেখেছিলেন, সেইভাবেই সাজানো হতো মূর্তি। তাই তাঁর পুজোয় ছিল খাঁটি বাঙালি ছোঁয়া, যা একেবারেই আলাদা মহারাষ্ট্রের গণপতির সাজ থেকে।
তবে সারা বছরের নিয়মিত পূজা আর গণেশ চতুর্থীর আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। উৎসবের দিনে নিজেই পুজো করতেন উত্তম, আর রান্নার দায়িত্ব নিতেন সুপ্রিয়া। মেনুতে থাকত খিচুড়ি, লাবড়া, পোলাও, আলুর দম, ছানার ডালনা, চাটনি, মিষ্টি, মোদক আর পায়েস। সন্ধে নামতেই বসত আসর। টলিউডের তারকারা আসতেন, আর গান ধরতেন উত্তম নিজেও। এমনকি একবার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি দেখেছিল শিল্পী মহল।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা আর চুপ থাকব না, সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে দাঁড়াবো” গর্ভেই মৃত সন্তান, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন সোহিনী
মহানায়কের এই পুজো আজ আর নেই, কিন্তু স্মৃতির ভাঁজে রয়ে গেছে সেই ভোরবেলা দেখা স্বপ্নের গল্প। যেখানে এক মহানায়ক কেবল পর্দার নায়কই নন, জীবনের প্রতিদিনেও নিজের বিশ্বাস আর ভক্তিকে সমানভাবে জায়গা দিয়েছিলেন। ময়রাস্ট্রিটের গণেশ চতুর্থী তাই আজও রয়ে গেছে বাঙালির কাছে এক বিশেষ স্মৃতি।





