কাশ্মীরের সেই অভিশপ্ত রাত…সুচিত্রা সেনের ঘরের বাইরে গুলজার! মহানায়িকার জন্যই কি ভেঙে গিয়েছিল গুলজার-রাখির সাজানো সংসার?

১৯৭০-এর দশকের বলিউড (Bollywood) ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত ও আবেগঘন প্রেম ছিল কবি ও পরিচালক গুলজার (Gulzar) এবং অভিনেত্রী রাখির (Rakhi Gulzar)। দুজনেই যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে, তখন প্রেমের টানে একে অপরের হাত ধরেছিলেন। কিন্তু সেই রঙিন প্রেমের গল্পে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে ১৯৭৫ সালে কাশ্মীরের পাহাড় ঘেরা উপত্যকায় গুলজার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আন্ধি’-র শুটিং চলাকালীন। কাশ্মীরের সেই এক রাতই চিরতরে বদলে দিয়েছিল এই জুটির রসায়ন, যার রেশ আজও ভক্তদের মনে এক বিষণ্ণতা তৈরি করে।

মূল ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ‘আন্ধি’র সেটে আয়োজিত একটি পার্টিতে। সেই ছবিতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন বাঙালির মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। জানা যায়, সেদিন পার্টি শেষে সুচিত্রা সেন যখন নিজের ঘরে ফিরছিলেন, তখন ছবির নায়ক সঞ্জীব কুমার মত্ত অবস্থায় তাঁর হাত ধরে ফেলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলজার এগিয়ে আসেন এবং সুচিত্রা সেনকে উদ্ধার করে তাঁর হোটেল রুম পর্যন্ত পৌঁছে দেন। দীর্ঘক্ষণ রুমের ভেতরে থাকা এবং সেই রাতে গুলজারের এই অতিরিক্ত যত্নশীল মনোভাবই হয়ে দাঁড়ায় রাখির সন্দেহের কারণ।

মহানায়িকার ঘর থেকে গুলজারকে দীর্ঘ সময় পর বের হতে দেখে রাখি নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি গুলজারকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি এত রাত পর্যন্ত অন্য এক অভিনেত্রীর ঘরে ছিলেন। সেই মুহূর্তে গুলজার এবং রাখির মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই দম্পতির বিবাদ সেদিন জনসমক্ষে চলে আসে। শোনা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে গুলজার রাখিকে আঘাত করেন। এই একটি ঘটনাই রাখির আত্মসম্মানে এমনভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি তখনই তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সংকল্প করেন।

এই বিবাদের পরদিন সকালেই এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। পরিচালক যশ চোপড়া ঠিক সেই সময়েই ‘কভি কভি’ ছবির প্রস্তাব নিয়ে কাশ্মীরে পৌঁছান। বিয়ের সময় গুলজার শর্ত দিয়েছিলেন যে রাখি আর অভিনয় করবেন না, এবং রাখিও তা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু কাশ্মীরের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর রাখি আর পিছিয়ে থাকেননি। গুলজারের অমত থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই সকালেই যশ চোপড়ার ছবিতে সই করেন এবং নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এই এক সিদ্ধান্তই তাঁদের সংসারের ভাঙনকে আরও তরান্বিত করে।

দীর্ঘ কয়েক দশক কেটে গেলেও গুলজার ও রাখি আজও আইনত বিবাহবিচ্ছেদ করেননি। তাঁদের একমাত্র কন্যা মেঘনা গুলজারের কথা ভেবে তাঁরা আলাদা থাকলেও বিচ্ছেদের কাগজে সই করেননি। কাশ্মীরের সেই শীতল রাত তাঁদের সংসার ভেঙে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আজ জীবনের শেষ বেলায় এসে তাঁরা একে অপরের ভালো বন্ধু। সংবাদমাধ্যমের পাতা থেকে শুরু করে সিনে-প্রেমীদের কাছে গুলজার-রাখি এবং সুচিত্রা সেনের সেই কাশ্মীরের রাত আজও এক অমীমাংসিত এবং ট্র্যাজিক রহস্য হয়ে রয়ে গেছে।