“ও ঢাল হয়ে আগলাত, এখন আমি কার উপর নির্ভর করব! সংসার রয়েই গেল, মানুষটা নেই, বিরাট বাড়িটা খাঁ খাঁ করছে,হাজার চাইলেও আর দেখতে পাব না” স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জয় ব্যানার্জির দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্কিতা!

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে গেল। অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আজও অবিশ্বাস্য যে, জয় আর নেই। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভেবেছিলেন, হয়তো কিছুটা ভাল খবর শুনবেন। কিন্তু সে আশা মিলিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন, এমনকি পেসমেকার বসানোর চেষ্টাও হয়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। জীবনের প্রতি এত ভালোবাসা থাকা মানুষটা চোখের পলকে হারিয়ে গেলেন। বিরাট বাড়ির চারপাশে আজ কেবল অদ্ভুত শূন্যতা, যেখানে অঙ্কিতা আর অসুস্থ শাশুড়ি ছাড়া আর কেউ নেই।

অঙ্কিতা বলেন, জয় কেবল তাঁর স্বামীই ছিলেন না, ছিলেন ভরসার জায়গা। স্কুল জীবনে জয়কে অভিনেতা হিসেবে দেখেছেন, পরে রাজনীতিক হিসেবে পাশে পেয়েছেন। স্পষ্ট কথা বলার জন্য অনেক সময়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, মানুষটা ভেতর থেকে ভীষণ মানবিক ছিলেন। সবসময় অন্যের জন্য ছুটতেন, কিন্তু নিজের ভালোটা বুঝতেন না। বিয়ের আগে থেকেই একে অপরকে চিনতেন তারা। কঠিন সময়ে জয় ঢাল হয়ে পাশে থেকেছেন। আজ হঠাৎ করে সেই ভরসার জায়গাটা ফাঁকা হয়ে গেছে।

জয়-অঙ্কিতার বয়সের পার্থক্য ছিল অনেকটা। জয় তখন ৬২, আর অঙ্কিতা মাত্র ৩৩। তবু কখনওই এই ফারাক বোঝা যায়নি। শ্বশুরমশাইও তাকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছেন। এমনকি জয় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও, অঙ্কিতা সবসময় অনুভব করেছেন এটাই তাঁর প্রথম এবং শেষ বিয়ে। অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়ের সম্পর্কের কথা তিনি অকপটে মেনে নিয়েছিলেন। অনন্যাদিও প্রয়োজনে পাশে থেকেছেন। অঙ্কিতার কথায়, “গতকাল দিদি যেভাবে আগলেছেন, আমার মা থাকলেও হয়তো এমনই করতেন।”

২০১৯ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। এরপর ছয় বছরের সংসার অঙ্কিতার কাছে ছিল প্রকৃত সুখের সময়। শ্বশুরমশাই ও শাশুড়ির দায়িত্ব, স্বামী-সংসার, আবার গোয়েন্দা সংস্থার কাজ— সব একাই সামলাতেন তিনি। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই জীবনের গতি থমকে গেছে। জয় নেই, তবে দায়িত্বগুলো রয়েই গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অঙ্কিতার কাছে সেটা একেবারেই অচিন্তনীয়। তিনি স্পষ্ট বলেন, “মাত্র একদিন আগে জয় চলে গিয়েছে। ওর স্মৃতি আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। এখনই কী করে দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবব? সংসারটা তো রয়েই গেল, শুধু মানুষটা নেই।” জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শূন্যতার মধ্যেও স্বামীর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেই নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অঙ্কিতা।