বর্তমানে বাংলা টেলিভিশন এবং বড় পর্দার পাশাপাশি বিনোদন দুনিয়ায় খুব বড় জায়গা করে নিয়েছে ওয়েব সিরিজ গুলি। আর এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলার সবচেয়ে বড় ওয়েব সিরিজ প্ল্যাটফর্ম হল হৈচৈ। যেখানে একটার পর একটা নানা রকম ওয়েব সিরিজ দেখতে পাওয়া যায়। এর আগে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির নানান অভিনেতা অভিনেত্রীরা মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন জনপ্রিয় সব ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে। তবে সম্প্রতি একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে খুব বেশি চর্চা চলছে সোশ্যাল মাধ্যমে। সেটি হল বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর প্রথম অভিনীত ওয়েব সিরিজ ইন্দুবালা ভাতের হোটেল।

দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত এই ওয়েব সিরিজে শুভশ্রী গাঙ্গুলীর অভিনয় নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। অবশ্য শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছে স্নেহা চট্টোপাধ্যায়, প্রতীক দত্ত, দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত, অঙ্গনা রায়, পারিজাত চৌধুরী, রাহুল বন্দোপাধ্যায়, মিঠু চক্রবর্তী প্রমুখ। প্রত্যেকের অভিনয়ই ছিল অসামান্য এমনটাই মত দর্শকদের। অনেকেই হইচই এর এই ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নিজের ছোটবেলাকে খুঁজে পেয়েছেন। নস্টালজিয়ার মাতানো এই ওয়েব সিরিজ যে দর্শক মহলে ভালোই সারা ফেলেছে তার নতুন করে বলে দিতে হবে না।
তবে যতই অভিনেত্রীর অভিনয় এবং গলার স্বর পরিবর্তনের প্রশংসা করা যায় ততই হয়তো কম হবে। শুভশ্রীর অভিনয় নিয়ে এক নেটিজেন লিখেছেন,”মেয়েটার অভিনয় আমি সত্যিই খুব পছন্দ করি। আর এবার টানা প্রায় দুইঘন্টা পর্দা থেকে এক সেকেন্ডও চোখ সরাতে দেন নি আমাকে ইন্দুবালা। যেন একাই রাজত্ব করেছেন পুরো সময় ধরে ইন্দুবালা অর্থাৎ শুভশ্রী গাঙ্গুলী।পরিণীতা থেকে এই বৃদ্ধ ইন্দুবালা, নায়িকার এই ট্রান্সফরমেশনটাই শুধু ভাবলাম। অসাধারণ।”
২রা মার্চ মুক্তিপ্রাপ্ত কল্লোল লাহিড়ীর লেখা কাহিনী অবলম্বনে দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ ওয়েব সিরিজ নিয়ে এক নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন। তার লেখায়,”সচরাচর আমি তেমন কোনো মুভি বা ওয়েব সিরিজ এর সমন্ধে লিখতে আসি না, কিন্তু ভাবলাম এই ওয়েব সিরিজ এর সমন্ধে লেখা আবশ্যক। আমার দেখা হইচইয়ের বেস্ট ওয়েব সিরিজ ইন্দুবালা ভাতের হোটেল ।। কাল ইন্দুবালা ভাতের হোটেল এর সিজন ১ দেখা শেষ করলাম। এক অসাধারণ অনুভূতি যা ভাষায় ব্যাক্ত করা যায়না। ওয়েব সিরিজ টা দেখতে দেখতে কোথায় যেন একটা হারিয়ে গেছিলাম, ওই আমাদের মাটির বাড়ি,যেখান টিম টিম করে একটা লণ্ঠন জ্বলছে, দিদা কোথা থেকে যেন হেঁটে হেঁটে এসে হাঁপিয়ে পড়ে আমাকে জল দিতে বলছে, আরো অনেক স্মৃতি যা লিখে বোঝাতে পারব না। ওয়েব সিরিজ টা যতক্ষন দেখছিলাম ততক্ষন মনেই হচ্ছিল না যে বাড়িতে বসে আছি,একটা ইন্দ্রজাল এর মত মনের ওপর জাল বুনে রেখেছিল।

যাইহোক প্রত্যেক টা ক্যারেক্টার অবিকল, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (ওরফে ইন্দুবালা মল্লিক) কথা বা তার অভিনয় এর সমন্ধে আমার বলার মত যোগ্যতা আমার হয়নি,কিন্তু তাও বলবো আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে, ধন্যবাদ তোমাকে এইরকম শৈশব স্মৃতি টাকে নতুন ভাবে তুলে ধরার জন্য। আর সঞ্চারি, লক্ষ্মী সরি লছমি মাসি,ধনা দা,রতনলাল,পারিজাত এদের প্রত্যেকে এক অনবদ্য স্মৃতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ধন্যবাদ হইচই এত মিষ্টি, সুন্দর, অতুলনীয় স্মৃতি উপহার দেওয়ার জন্য। সিজিন ২ এর অপেক্ষায় রইলাম।”





