অভিনয়ের জগতে আবারও ফিরছে হারিয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প। পরিচালক সপ্তাশ্ব বসুর নতুন ছবি ‘দেরি হয়ে গিয়েছে’ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনায় টলিপাড়া। অঞ্জন দত্ত ও মমতাশঙ্কর আবার একসঙ্গে পর্দা কাঁপানোর অপেক্ষায় ভক্তরা। তবে শুধু তাই নয়, এই ছবির হাত ধরেই অভিনয়ের দুনিয়ায় প্রথম পা রাখছেন মমতাশঙ্করের ছোট ছেলে রাজিতশঙ্করের স্ত্রী — সৌরিতাশঙ্কর ঘোষ। একেবারে পারিবারিক ধারার রেশ টেনে নতুন পথে যাত্রা তাঁর।
চমকের বিষয় হল, সৌরিতার অভিনয়ে সুযোগ পাওয়া যেন একেবারে সিনেমার মতোই আকস্মিক! সেদিন বাড়িতে গৃহ-সহায়িকা না থাকায় অতিথি পরিচালক এবং অভিনেতাকে চা পরিবেশনের দায়িত্ব পড়েছিল পরিবারের ছোট বৌমার ওপর। চা দিতে গিয়েই সৌরিতাকে দেখে মুগ্ধ হন সপ্তাশ্ব বসু। পরে মমতাশঙ্করের সঙ্গে কথা বলে তৎক্ষণাৎই ঠিক হয়ে যায় তাঁর প্রথম ছবির নাম! শাশুড়িও আপত্তি করেননি, বরং বললেন— “এটা আমাদের পরিবারের গর্ব।”
প্রথম সুযোগের কথা মনে পড়তেই এখনও উত্তেজনায় ভরে ওঠেন সৌরিতা। বললেন, “হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল! এত বড় একটি দলের সামনে আমি কি পারব? সবাই বলেছিল, অবশ্যই কর।” দশ বছর বয়স থেকে মমতাশঙ্করকে চিনলেও, তাঁর শৈশবের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু কম বড় কিছু নয়। আর প্রথম ছবিতেই সামনে অচেনা অভিনেতা— আদিত্য চৌধুরী! প্রেমের দৃশ্যে তো দ্বিগুণ টেনশন। তবে পরিবারের প্রত্যেকের উৎসাহে ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
ক্যামেরার সামনে এই প্রথম হলেও, সৌরিতার নাচের অভিজ্ঞতাই তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর খুবই আনন্দের। তবে ব্যস্ততার জন্য শাশুড়ি মমতা টিপ্স দিতে না পারলেও, ডাবিং-এ দেখা কিছু অংশেই তিনি যথেষ্ট খুশি। ছবির মুক্তিও এখনও হয়নি— তবু দ্বিতীয় সুযোগের প্রসঙ্গ উঠতেই হেসে বলেন, “আগেরটাও তো কেউ দেখল না এখনো! ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না।”
আরও পড়ুনঃউনি আমার জীবনের অনুপ্রেরণা, ওনার জন্যই…’- শ্বশুর মশাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মিঠুন চক্রবর্তীর পুত্রবধূ!
বড় জা সুদেষ্ণাশঙ্কর ঘোষ এখনও সিনেমায় নামেননি, কিন্তু দোকানদারির মনোভাব এই পরিবারে নেই— সবাই ভীষণ উদারচেতা। দুই বৌমার জন্য মমতাশঙ্করের অনুরোধ শুধু একটাই— পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখেই এগোতে হবে। তাঁর কথায়, “ওরা যত উন্নতি করবে, আমি ততটাই গর্বিত হব।” বড় ছেলে রাতুল ইতিমধ্যেই অভিনয় করেছেন, তবে ছোট রাজিত এখনও ন’চেয়েছেন— সেটুকু নিয়েই খানিক আফসোস মায়ের। তবু সৌরিতার দাপুটে অভিষেকেই এখন পরিবারের মুখভরা হাসি!





