বেলাশেষে থেকে নতুন ভাবে অপরাজিতা আঢ্যকে (Aparajita Auddy) দেখতে পেল দর্শক। এরপর প্রাক্তন, চিনি, একান্নবর্তী, এটা আমাদের গল্প -এর মত ভিন্ন ধরনের চরিত্রে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকেরা। এমনকি ছোট পর্দায় লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার থেকে জল থই থই ভালোবাসা বরাবর দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। সবাই পরিবার ছোট করছে সেখানে সব পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে হৈ হৈ করে থাকেন অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy)। কিভাবে নিজেকে মেন্টেন করেন এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, “ফ্যামিলিতে থাকি বলেই এটা মেন্টেন করতে পারি। যদি ফ্যামিলিতে না থাকতাম মেন্টেন করতে পারতাম না। ফ্যামিলিতে না থাকলে জীবনটা কেমন হতো জানিনা। আমি একটা পরিবারের মধ্যে থাকি আমি সম্পূর্ণ স্বাধীন, কিন্তু একটা শৃঙ্খলা আছে। একটা সম্পর্ক যদি স্বার্থের হয় সেটা খুব বেশি হলে তিন থেকে চার বছর টিকতে পারে। আমরা প্রত্যেকে একে অপরের পরিপূরক। আমি পাড়া কালচার ছাড়া বাঁচতে পারব না।”
একই বাড়িতে সবাইকে নিয়ে থাকে কখনও মনে হয়েছিল একটা বিলাসবহুল ফ্যাট চাইলেই কিনতে পারতাম, আলাদা থাকবো এটা কখনো মনে হয়নি? অভিনেত্রীর (Aparajita Auddy) কথায়, “আমাদের বাড়িতে জায়গার অভাব। তাই এই ফ্ল্যাটটা কিনেছিলাম। কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিল যে ফ্ল্যাটটা কিনব, সেই ফ্ল্যাটটা এই গলির বাইরে হবে না।” যখন প্রথম এই বাড়িতে পা দিয়েছিলেন তখন অনেক ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছিল, পিছনে ফিরে দেখলে কি স্মৃতি মনে পড়ে? অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “সবাই বলেছিল তোমার বাড়ির লোক তোমায় ধরে নিয়ে চলে যাবে। বিয়ের সময় সত্যিই অশান্তি হয়েছিল। মা একেবারেই মেনে নেননি। যেদিন থেকে এই বাড়িতে এসেছি অনেক আরাম পেয়েছি। এই বাড়ি আমাকে অনেক মানসিক শান্তি দিয়েছে।”
বিয়ের পর কাজ নিয়েও নানা সমস্যা হয়েছিল, এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, “সে সময় সবাই বলেছিল তুমি টেকনিশিয়ান কে বিয়ে করেছ, তুমি হিরোইন হচ্ছো। তখন ইন্ডাস্ট্রির এরকম একটা ব্যাপার ছিল। তখন ভীষণ মোটা হয়ে গেছিলাম,কাজ পেতে সমস্যা হয়েছিল। আমি কখনো কাউকে বলি না আমাকে কাজ দাও, তাই ভেবেছিলাম আমি কাজ করব না। তখন ভেবেছিলাম গ্র্যাজুয়েশনটা করে নি। তারপর যখন আলফা বাংলা এল,তারপর আবার নতুন কাজ আসতে শুরু হল, কাজ শুরু করলাম।”
কিভাবে প্রেমে পড়েছিলেন অভিনেত্রী (Aparajita Auddy) সেই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা সেরকম ভাবে প্রেমে পড়িনি। আমরা রনজিতদার একটা শুটিং করতে গিয়েছিলাম তালসারিতে। তালসারিতে আমার বর আমাকে বলে আমার একটা এরম বউ হলে ভালো হয়। ২৬ শে জুন আমাদের আলাপ হয়েছিল। তারপর আমি বাড়িতে আসি এবং শাশুড়ি মায়ের সাথে আমার আলাপ হয়। আমার শাশুড়ি বলে, ‘তুমি এত সুন্দর তুমি কিন্তু আমার ছেলেকে বিয়ে করো না, ভুল করবে। আমার ছেলে তোমার থেকে বয়সে অনেক বড় এবং আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। তুমি তো রাজরানী হবে।’ কিন্তু আমি কোনদিন রাজরানী হতে চাইনি বড়লোকদের আমি এখনও ভয় পাই। তখন আমার শাশুড়িকে ভীষণ ভালো লাগে। আমার মনে হয়েছিল আমি যদি কিছু করতে চাই, এই বাড়িটা হচ্ছে আমার সেই রাস্তা। তারপর এক মাসের মধ্যেই ২৬ শে জুলাই আমাদের রেজিস্ট্রি হয়। ৮ই আগস্ট আমাদের বিয়ে হয়ে যায়।”
কটুক্তি, ট্রোল থেকে নিজেকে কিভাবে সামলে রাখেন অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy), এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “আমার ওপর নেই ভুবনের ভার। আমি কারোর কথা শুনিও না। আমি নিজেকে নির্ভুল প্রমাণ করার চেষ্টাও করি না। এত বড় বয়সে আমার বন্ধু সংখ্যা চারটি। এই চারটি বন্ধুও বাড়ির লোকের বাইরে আমার কাউকে বোঝানোর দায় নেই আমি ভালো না খারাপ। সমালোচনা করার জন্য কোন ট্যালেন্ট লাগেনা। আমি মনে করি তারা মানুষকে নিয়ে সমালোচনা করে, যারা মানুষকে নিয়ে কটুক্তি করে তারা সমাজের অযোগ্য, বর্বর।”
আরও পড়ুন: Breaking News! পর্দায় ফিরছেন মেয়েবেলার ডোডোদা! অপর্ণের বিপরীতে থাকছেন ছোটপর্দার তুঁতে!
অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy) হাত দেখিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা টোটাকে। অভিনেত্রী জানান, ” টোটা বলেছিল ৩৫-৩৭ বছরে হিরোইন হব। তখন বলেছিলাম ততদিনে তো কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। আমি দেখলাম যখন প্রাক্তন রিলিজ হল তখন আমার ৩৭ বছর বয়স।” ইন্ডাস্ট্রির কোন কিছু কি অপরাজিতা আঢ্যকে দীর্ঘ কেরিয়ারে আঘাত দিতে পেরেছে। অভিনেত্রী জানান, “ইন্ডাস্ট্রির কোন কিছুই আমাকে আঘাত দিতে পারেনি। আঘাত দেওয়ার মত অতটা গুরুত্ব ইন্ডাস্ট্রিকে দিইনি। এখানে কেউ বন্ধুও হয় না, শত্রুও হয় না। এখানে সবাই প্রয়োজন পড়লে কথা বলে। “





