ভূতে ধরেছে অমৃতাকে?
“…ওরকম ভূত তো ধরুকই (হাসি)। যদি সুন্দর সুন্দর ছবির ভূত ধরে, তাতে অসুবিধা কোথায়!”
ভূতের গল্প উঠলে আলোচনার শেষ নেই। আপনি কি ভূতে বিশ্বাস করেন?
“আমরা যারা বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বই পড়ে বড় হয়েছি, তাদের মিষ্টি ভূতে বিশ্বাস করতে ভালোই লাগে। যেমন ভূতের ছবিতে দেখা যায় — ভালো ভূত, মজার ভূত — ওসব ভালোই লাগে। তবে ‘কনজিউরিং’ টাইপের ভূতের গল্প আমি সহ্য করতে পারি না। ওসব দেখে টানা চার রাত ঘুম হবে না!”
‘ভূতপূর্ব’ সিনেমায় আপনি আছেন ‘মণিহারা’ গল্পে, সত্যম ভট্টাচার্যর সঙ্গে। শুটিংয়ে কোনও অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
“না না, আমরা এত ব্যস্ত ছিলাম কাজ নিয়ে, তেঁনারা (ভূতেরা) বুঝে গিয়েছিলেন যে পাত্তা পাবেন না। তাই বোধহয় বিরক্তও করেননি (হাসি)।”
এই সপ্তাহে একদিকে ‘ভূতপূর্ব’ মুক্তি পাচ্ছে, অন্যদিকে ওটিটিতে আসছে ‘সন্ধে নামার পরে’। দুটি কাজেই কি রহস্যের ছোঁয়া রয়েছে?
“‘সন্ধে নামার পরে’ হলো ক্রাইম থ্রিলার। আর ‘ভূতপূর্ব’ তো সাহিত্যভিত্তিক রোমাঞ্চ। একসঙ্গে তিনটি রিলিজ — ‘চাবিওয়ালা’-র থার্ড উইক চলছে, এবার ‘ভূতপূর্ব’, তারপর ‘সন্ধে নামার পরে’। এই কাকতালীয় জিনিসগুলো খুব ভালো লাগে। যেসব কাজ মনের কাছের, সেগুলো একসঙ্গে রিলিজ হলে তো আনন্দ দ্বিগুণ।”
দশ বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। এখন কি মনে হয় একটু একটু করে স্বীকৃতি মিলছে?
“আমরা তো কাজ করি মানুষকে ছুঁতে, যাতে আরও ভালো কাজের সুযোগ আসে। আমার ক্ষেত্রে বরাবরই এক কাজ থেকে আরেকটা এসেছে। কাজ রিলিজ করা, দর্শকের কাছে পৌঁছনো আর ইন্ডাস্ট্রির লোকেদের নজরে আসা — এগুলো ভীষণ জরুরি। কারণ, কাজ না দেখলে কাস্টই করবে কীভাবে? তবে হ্যাঁ, টলিউডে কাজ পেতে অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে।”
লবি, বা আপস করার প্রস্তাব — এর মুখোমুখি হয়েছেন কখনও?
“ভুলভাল প্রস্তাব? সেটা হয়নি। কারণ আমার বাবা একজন প্রবীণ সাংবাদিক, তাই শুরু থেকেই সবাই জেনে গিয়েছিল যে আমি কার মেয়ে। ফলে ‘অফিসে ডাকতে হবে, সুইস হোটেলে নয়’ — এমনই ধারণা ছিল (হাসি)। আর আমি নিজেকে যে ভাবে ক্যারি করি, তাতে অনেকেই বলে, অ্যাপ্রোচ করা কঠিন। নাহলে হয়তো চাপ হত আমার ওপর।”
আর লবির প্রভাব? বুঝতে পেরেছেন কখনও?
“এইটা একটা অঙ্কের মতো। কার কোন লবিতে, সেটা বুঝে উঠতে হয়। আমরা যেমন স্কুলে অঙ্কে ‘বদমাস’ (BODMAS) শিখেছিলাম, ইন্ডাস্ট্রিও সেই অঙ্কের মতো। এক সময় দেখা যাবে, তুমিই শুধু লবির বাইরে আছো (হাসি)। সবচেয়ে সফল মানুষটারও হয়তো মনে হয় আরও ভালো কাজ পেতাম যদি… তাই তো বলি, আমরা সবাই ভালো সুযোগ চাই।”
আরও পড়ুনঃ ‘ভগবান ভরে দিয়েছেন, অভিযোগ নেই’— জন্মদিনে বার্লিন থেকে জানালেন ঋতাভরী চক্রবর্তী
বাবা সাংবাদিক বলেই কি একটা প্রোটেকশন অনুভব করেন? আবার কেউ কেউ হয়তো বলেন, কাজ পেতে এটা আপনার অ্যাডভান্টেজ…
“হ্যাঁ, অনেকেই বলেন। তবে বাবা কখনও তাঁর পেশাগত পরিচিতিকে কাজে লাগাননি। উপহারও নেন না। কারও সঙ্গে আঁতাত করেন না। ওটাই তাঁর নীতি। অনেকের হয়তো সেই ক্ষমতা আছে, তারা ব্যবহার করেন। কিন্তু কী ক্ষমতা ব্যবহার করব বা করব না, সেটা নিজের সিদ্ধান্ত। এমনও শুনেছি, ‘জার্নালিস্টের মেয়ে? ওকে কাস্ট করব না।’ সাংবাদিক হতে না হয়ে অভিনয়ে এলাম — এটাও অনেকের খারাপ লেগেছে। আড়ালে এসব কথাও কানে এসেছে।”





