এ যেন চলতি বছরে একের পর এক নক্ষত্রপতনের মিছিল। দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকা একের পর এক শিল্পী আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল দক্ষিণী সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের— যাঁকে সবাই ভালোবেসে ডাকতেন ‘অভিনয়া সরস্বতী’ নামে।
সোমবার সকালে, যশবন্তপুরের মণিপাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বি.সরোজা দেবী। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি। আর সেই অসুস্থতার সঙ্গেই শেষ লড়াইটা শেষ করে চিরবিদায় নিলেন এই প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। আর তারপর থেকে আর থেমে থাকেননি। একে একে প্রায় ২০০-রও বেশি কন্নড়, তামিল, তেলুগু ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। হিন্দি ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন দিলীপ কুমার, রাজেন্দ্র কুমার, সুনীল দত্ত, শাম্মি কাপুরের মতো মহারথীরা। এক অনবদ্য পর্দা উপস্থিতি দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সময়ের চেয়ে বড়।
কেবল অভিনয়েই নয়, সম্মান ও স্বীকৃতিও ছিল তাঁর ঝুলিতে ভরপুর। ১৯৬৯ সালে তিনি পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী, আর ১৯৯২ সালে সম্মানিত হন পদ্মভূষণ পুরস্কারে। এছাড়াও কালাইমামানি পুরস্কার, বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি প্রধানের দায়িত্ব— সবটাই তিনি সামলেছেন তাঁর সহজ অথচ দৃপ্ত ব্যক্তিত্বে।
এত গৌরব, এত স্মৃতি, এত ভালোবাসা— সব কিছুর মাঝেই তিনি রেখে গেলেন এক অপূরণীয় শূন্যতা। তাঁর চলে যাওয়াটা যেন শুধু একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি নয়, বরং একটা যুগের অবসান।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনুরাগী, সহকর্মী থেকে সাধারণ দর্শক— সবাই আজ শোকস্তব্ধ। এমন একজন অভিনেত্রী, যাঁর উপস্থিতি একমাত্র পর্দাতেই নয়, মানুষের মনে-মগজেও ছিল ভীষণ স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ রাস্তার জমা জলে নেমে একেবারে বাচ্চা মেয়ের মতো মজা করলেন আরাত্রিকা, ভিডিও দেখে মন ভরে গেল নেটপাড়ার!
বি.সরোজা দেবী নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর হাসি, তাঁর অভিনয় আজীবন থেকে যাবে আমাদের স্মৃতির মঞ্চে।





