টলিপাড়ায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। এক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, যাঁর হাত ধরে একসময় বলিউডে জন্ম নিয়েছিল কালজয়ী ছবি ‘ডন’, যিনি আবার বাংলা ছবির পর্দাতেও ছুঁয়ে গেছেন নানাভাবে—চিরতরে চলে গেলেন তিনি।
তাঁর কাজের ভক্ত শুধু হিন্দি সিনেমার দর্শকরাই নন, বাংলার সিনেমাপ্রেমীরাও এক সময় প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর কাজ। কখনও সহকারী পরিচালক, কখনও নির্মাতা—বিভিন্ন ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি বলিউডের পাশাপাশি বাংলাতেও রেখে গেছেন নিজের উপস্থিতি।
‘ডন’—এই একটি শব্দেই যাঁর নাম উঠে আসে প্রথম সারিতে, সেই কাল্ট ক্লাসিকের স্রষ্টা ছিলেন তিনি। তাঁর পরিচালনায় ১৯৭৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘ডন’, যে ছবির সংলাপ, অ্যাকশন আর কনসেপ্ট আজও নস্টালজিয়া তৈরি করে।
হ্যাঁ, কথা হচ্ছে পরিচালক চন্দ্র বারোটকে নিয়ে। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও পালমোনারি ফাইব্রোসিসে ভুগছিলেন। অবশেষে রোববার তাঁর জীবনাবসান হল।
বলিউডে স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া। তাঁর প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফারহান আখতার, কুণাল কোহলি-সহ বহু পরিচালক ও অভিনেতা। ফারহান, যিনি নিজেও ‘ডন’-এর আধুনিক রিমেক বানিয়েছেন ২০০৬ সালে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন—”অরিজিনাল ডনের পরিচালক আর নেই জেনে দুঃখিত। চন্দ্র বারোটজির আত্মার শান্তি কামনা করি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।”
চন্দ্র বারোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল সহকারী পরিচালক হিসেবে। মনোজ কুমারের ‘পূরব অর পশ্চিম’, ‘ইয়াদগার’, ‘রোটি কাপড়া মকান’-এর মতো ছবিগুলিতে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তবে ‘ডন’-এর সাফল্য তাঁকে স্মরণীয় করে তোলে।
বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্যেও তিনি অপরিচিত নন। বাংলা ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বারোট একবার বলেছিলেন, “হিন্দি হোক বা বাংলা—ভালো গল্পই মানুষকে মনে রাখে।” কিন্তু তিনি জানতেন, মানুষ তাঁকে ‘ডন’-এর জন্যই সবচেয়ে বেশি মনে রাখবে।
আরও পড়ুনঃ শাহরুখ ‘ভাই’ বলে ডেকেছেন মমতা, কিং খানের চোট পাওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী!
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি যখন ডন বানাচ্ছিলাম, তখন মিডিয়া খুব একটা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু ছবিটা একটা সময় পরে একটা কাল্ট হয়ে যায়। আমি খুশি যে ফারহান তার রিমেক করেছে। সেটাই ছবিটার প্রকৃত সম্মান।” চলে গেলেন তিনি, যিনি একা হাতে বলিউডকে এক অনন্য চরিত্র উপহার দিয়েছিলেন। তবে তাঁর কাজ, তাঁর ছবিগুলো, আর তাঁর তৈরি করা ‘ডন’ চিরকাল বেঁচে থাকবে সিনেমাপ্রেমীদের মনে।





