‘পরাণ দার সঙ্গে আমার সম্বন্ধ এসেছিল! কিন্তু বিয়েটা আর হল না’ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের আবেগঘন স্বীকারোক্তি

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়—বাংলা সিনেমার এক উজ্জ্বল নাম, যার অভিনয় যেমন মন ছুঁয়েছে, তেমনই তাঁর ব্যক্তিত্ব আজও সকলের কাছে সমান আকর্ষণীয়। কিন্তু এবার তাঁকে ঘিরেই সামনে এল এক এমন তথ্য, যা শুধু চমকে দেওয়ার নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা এক সম্ভাবনার অপ্রকাশিত অধ্যায় উন্মোচন করে দিল।

নিজের জীবনের একটি গোপন সত্য স্বীকার করে সাবিত্রী জানান, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত একটি সম্পর্ক বাস্তব রূপ নেয়নি। আর সেই সম্পর্কে জড়িত নাম আর কেউ নন—পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি নিজেও বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্তম্ভতুল্য অভিনেতা। সাবিত্রীর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, “আমার সঙ্গে ওর সম্বন্ধ এসেছিল। অনেক চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বিয়ে আর করা হল না,” এই কথাটাই যেন একটি নীরব অথচ শক্তিশালী বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে সকলের মনে।

এই মন্তব্যের সময় উপস্থিত ছিলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। যদিও তিনি কিছু না বললেও, তাঁর হাসি, দৃষ্টির অভিব্যক্তি এবং মুহূর্তের নিঃশব্দতা যেন নিজের ভাষায় অনেক কিছু বলে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়জগতে পাশাপাশি থাকা এই দুই শিল্পীর মধ্যে কি শুধুই সহকর্মীসুলভ সম্পর্ক ছিল? নাকি বাস্তব জীবনে তাঁরা একে অপরের কাছাকাছি এসে হয়তো আবার সরে গিয়েছিলেন?

ঘটনা হল, এই স্বীকারোক্তি কোনও একান্ত সাক্ষাৎকারে নয়, বরং এক সর্বজনীন অনুষ্ঠানে বহু মানুষের সামনে ঘটে। উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই, যাঁরা প্রথমে বিষয়টি মজার ছলে নিলেও, মুহূর্তেই টের পান এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক অপ্রকাশিত আবেগ ও অতীতের দীর্ঘশ্বাস।

পরিস্থিতি খানিকটা হালকা হলেও, এই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে—এই সম্পর্কটা ঠিক কী ছিল? কার কারণে তা এগোয়নি? এবং দীর্ঘ কেরিয়ারের পর কেন এখন এমন একটি কথার প্রকাশ?

এই মজার-আবেগমাখা মুহূর্তটি সামনে আসে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো-এর মঞ্চে, যেখানে ‘প্রধান’ ছবির দল অংশ নিতে এসেছিলেন। সেখানেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হোস্টিংয়ে ধরা পড়ে এই অনন্য মুহূর্ত। দেব, সোহম, মমতা শঙ্কর সহ উপস্থিত সকলেই তখন আবেগে-হাসিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভেসে যান।

কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন—এই সম্পর্ক সত্যিই যদি বাস্তব হত, বাংলা চলচ্চিত্র বা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনটা কি অন্যরকম হত?

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র এই বক্তব্যই যথেষ্ট, বহুদিনের নীরবতাকে ভেঙে দিয়ে আলো ফেলে দেয় এক সম্ভাব্য সম্পর্কের ছায়াপথে, যা হয়তো সময়ের অপেক্ষাতেই থেকে গেল, সম্পূর্ণ না হয়ে।