টলিউডের চেনা মুখ অপরাজিতা আঢ্য, যাঁকে আমরা ভালোবেসে ‘লক্ষ্মী কাকিমা’ বলি, সম্প্রতি এক ফটোশুটের ছবি শেয়ার করতেই হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেমে এল কটাক্ষের বন্যা। কালো রঙের একটি ডিপ নেক পোশাকে দেখা গেল তাঁকে—গ্ল্যামারাস, কনফিডেন্ট, একেবারে আলাদা রূপে। কিন্তু, এই লুকই যেন চোখে চোখে না-ভাল লাগল কিছু নেটিজেনের!
মুহূর্তের মধ্যে কমেন্ট বক্স ভরে উঠল কুরুচিকর মন্তব্যে— “এই বয়সে এসব জামা পরা মানায়?”, “ঠাকুমা হয়ে গেলেন, এত ক্লিভেজ দেখানোর কী দরকার?”, “বুড়ি হয়েও ছুঁড়ি সাজছেন!”— এমন অনেক কথায় বিদ্ধ করা হল তাঁকে।
বাঙালি সমাজে একটা প্রচলিত মানসিকতা আজও আছে— যদি একজন মহিলা একটু বেশি হাসিখুশি হন, একটু খোলামেলা পোশাক পরেন, বা নিজের মতো করে জীবনটা উপভোগ করেন, তাহলেই তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধে না। আর যদি বয়স কিছুটা বেড়ে যায়, তাহলে তো কথাই নেই! তখন সবাই চান তিনি যেন কেবল ‘ঠাকুমা’র ছাঁচে নিজেকে ফিট করেন।
অপরাজিতা বরাবরই প্রাণোচ্ছ্বল, হাসিখুশি মানুষ। তিনি জানেন কাকে কীভাবে আনন্দ দিতে হয়, কীভাবে নিজের জীবনটা উপভোগ করতে হয়। তাঁর এই ব্যক্তিত্ব অনেকের ভালো লাগলেও, কিছু মানুষ শুধু তাঁর বয়স বা পোশাক দেখে বিচার করতে ব্যস্ত।
আরও পড়ুনঃ ‘স্টেশনে রাত কাটিয়েছি, আত্মীয়রাও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, চুড়িদার পরতাম বলে অনেকের কটুক্তি শুনেছি’ মেদিনীপুর থেকে রুপোলি পর্দা! অতীতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে দিলেন মেহেন্দি ওরফে ঋতু রায় আচার্য
এই প্রথম নয়—এর আগেও অনেকবার তিনি এই ধরণের ট্রোলিংয়ের মুখে পড়েছেন। কিন্তু, তার কোনও কিছুকেই গুরুত্ব দেন না তিনি। বরং নিজের মতো করে সাজেন, গান করেন, নাচেন—কারণ জীবনের আসল মানে তিনিই বুঝেছেন: নিজেকে ভালোবাসা। তাঁর এই সাহসিকতা ও স্বাধীনতার জার্নিটাই তো আজকের অপরাজিতা আঢ্যকে আলাদা করে তোলে—স্ক্রিনে হোক বা বাস্তবে।





