একসময় যাঁর নামে হাউসফুল বোর্ড ঝুলত টালিগঞ্জের সিনেমা হলে, আজ সেই চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর দিন কাটে অনেকটাই নিঃশব্দে। নব্বইয়ের দশকে যিনি টলিউডে রাজ করেছেন একের পর এক হিট ছবির দৌলতে, তিনিই আজ জীবনের পরের অধ্যায়ে এসে বলছেন — “সবকিছু থাকার পরেও যেন কিছু নেই!”
অভিনেতা, রাজনীতিক, শিল্পপ্রেমী — চিরঞ্জিত চক্রবর্তী যেন এক বহুমাত্রিক মানুষ। কমিক্স শিল্পী শৈল চক্রবর্তীর পুত্র তিনি, যিনি একসময় সত্যজিৎ রায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘বর্ণান্ধ’-এর ছবি এঁকেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের ‘ল্যাবরেটরি’ গল্পের ছবিতেও ছিলেন তাঁর অবদান। চিরঞ্জিত নিজেও যুক্ত ছিলেন ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে, এমনকি একসময় দূরদর্শনের খবরের মুখও ছিলেন।
কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও যেন একটা শূন্যতা থেকে যায় — মেয়ের থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা।
চিরঞ্জিতের স্ত্রী রত্নাবলী চক্রবর্তী, আর তাঁদের একমাত্র কন্যা দীপাবলি। তবে দীপাবলি কোনওদিনই লাইমলাইটে আসেননি, বাবার মতো রুপোলি পর্দার টান ছিল না তাঁর মধ্যে। ছোটবেলায় কলকাতার গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করে ব্যাঙ্গালোরে মাইক্রোবায়োলজিতে এম.এসসি করেন। এরপর ২০০৮ সালে বিয়ে করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আকাশ আগারওয়ালকে, তারপরই পাড়ি দেন আমেরিকায়।
আজ দীপাবলি একজন গবেষক, হিউস্টনের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারে করছেন পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্চ। স্বামী-সন্তান নিয়ে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের জীবন। তাঁদের এক কন্যাও রয়েছে। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় আসেন, আর তখনই কিছুটা প্রাণ ফেরে চিরঞ্জিতের বাড়িতে।
চিরঞ্জিত নিজেও কাজের ফাঁকে আমেরিকা যান, মেয়ের কাছে কিছু সময় কাটাতে, নাতনির সঙ্গে খেলতে। কিন্তু দিনের শেষে মেয়েকে কাছে না পাওয়া, দূরদেশে থাকতে দেখা — অভিনেতার চোখে-মুখে সেই অভাব আজও ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ একঘর লোকের সামনে সৌমিত্রর পাঞ্জাবী এক টানে ছিঁড়েছিলেন সুচিত্রা! সুচিত্রার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সৌমিত্র?
একটা সময় হাজারো মানুষের ভালোবাসায় ভরা জীবন কাটানো চিরঞ্জিত, আজ স্ত্রী রত্নাবলীর সঙ্গেই নিঃশব্দে সময় পার করছেন। নাম, খ্যাতি, সম্মান — সবই আছে। শুধু একটু কাছের মানুষের স্পর্শটাই হয়তো একটু কম পড়ে যায় মাঝে মাঝে…





