বাংলা ধারাবাহিক কিংবা টলিউডের সিনেমা—দুই জায়গাতেই বহু বছর ধরে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন মৌসুমী সাহা। নায়কের মায়ের ভূমিকায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়, কখনও দেবের, কখনও অঙ্কুশের, আবার কখনও জিৎ-এর পর্দার মা হয়ে উঠেছেন তিনি। বর্তমানে তাকে দেখা যাচ্ছে জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল গৌরী এলো-তে ছোট ঠাম্মির ভূমিকায়। কিন্তু ক্যামেরার সামনে হাসিখুশি এই মানুষটির ব্যক্তিগত জীবন একেবারেই সহজ ছিল না। ছোটবেলা কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্যে, সেই লড়াই আজও তার জীবনের সঙ্গী।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মৌসুমী খোলাখুলি নিজের জীবনের গল্প শোনালেন। তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সংসারে প্রচণ্ড আর্থিক টানাপোড়েন চলত। তবুও তার মা চাইতেন মেয়েকে সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত করতে। সেই কারণেই ধার করে হলেও তাকে নাচ শেখাতে পাঠাতেন। সৌভাগ্যের বিষয়, মৌসুমীর নাচ দেখে তার গুরু এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে বিনা পয়সায়ই তাকে শেখাতেন। পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করতেন এবং স্কলারশিপের টাকাতেই মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। স্কুলে পড়াকালীন প্রায় দশ বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানে নাটক করতেন। কলেজে ওঠার পর থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং অভিনয়ের জন্য একাডেমি অ্যাওয়ার্ডও পান। সেই থিয়েটার থেকেই আসে দূরদর্শনের জন্মভূমি সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ। সেখানেই ছোট গিন্নির ভূমিকায় নজর কেড়েছিলেন মৌসুমী। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সিনেমা ও ধারাবাহিকের প্রস্তাব আসতে থাকে।
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে এখন প্রায় ৪৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মৌসুমী। তবে দর্শকের চোখে তিনি যতটা জনপ্রিয় অভিনেত্রী, ব্যক্তিগত জীবনে তার ভিতরটা ততটাই ফাঁকা। বাস্তব জীবনে তিনি নিঃসন্তান। তাই অভিনয়ই তার একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র ভরসা। প্রতিটি চরিত্রকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আগলে নিয়েছেন, হয়তো সেই কারণেই দর্শকরা তাকে পর্দার মা হিসেবে এত সহজে আপন করে নিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করে পাননি স্ত্রীর মর্যাদা, রক্ষিতা হয়েই কাটছে জীবন! সন্তানহীন জীবনে শুধুই আক্ষেপে নিয়ে বেঁচে আছেন জয়া প্রদা
অর্থকষ্টের সংসার থেকে উঠে এসে আজ তিনি একা হাতে নিজের জীবনটা গড়ে তুলেছেন। এখনও সিরিয়ালে নিয়মিত কাজ করছেন, লড়াই করছেন প্রতিদিন। তার গল্প শোনার পর বোঝা যায়, সাফল্যের পিছনে কতটা ত্যাগ আর কষ্ট লুকিয়ে থাকে। মৌসুমী সাহার জীবনের এই অধ্যায় শুধু অনুপ্রেরণাই নয়, সাহস জোগায় অসংখ্য মানুষকে।





