চার দিনে বিয়ে, তিন মেয়ের ডেট বাতিল! অনন্যার প্রেমে পাগল ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়

আলোয় ঝলমলে মঞ্চ। চারপাশে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। সেখানে মুকুট মাথায় দাঁড়িয়ে এক তরুণী—‘মিস ক্যালকাটা’ অনন্যা। বিচারকের আসনে বসে আছেন অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দেখা, প্রথম চোখাচোখি, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের গল্প। মনে হয়েছিল যেন সময়টা থেমে গেল দু’জনের জন্য।

অনন্যা ছোটবেলায় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন। সেখানেই জয়ীও হয়েছিলেন। আর বিচারকের আসনে বসে ছিলেন জয়। এক সাক্ষাৎকারে জয় মজা করে বলেছিলেন, অন্য বিচারকরা যখন প্রতিযোগীদের কার্ড বিলি করছিলেন, তখন তিনি কোনও কার্ডই দেননি। একটু এড়িয়ে চলতেন মেয়েদের। হয়তো সেই কারণেই অনন্যার কৌতূহল আরও বেড়ে গিয়েছিল তাঁর প্রতি। সাহস করে জিজ্ঞেসও করেছিলেন, “আমি কি আপনার একটা কার্ড পেতে পারি?” জয়ের সোজা উত্তর, “আমার কোনও কার্ড নেই।”

মজার ব্যাপার, ওই দিন অনন্যার তিনজনের সঙ্গে ডেটে যাওয়ার প্ল্যান ছিল। কিন্তু জয়কে দেখে সব বাতিল করে দিলেন। পরে জয় নিজেই জানিয়েছিলেন, বাবার নাম করে মিথ্যে ভয় দেখিয়ে ওই ডেটগুলো ক্যানসেল করেছিলেন তিনি। এরপর শুরু হল তাঁদের প্রেমকাহিনী। জয় পাগলের মতো প্রেমে পড়ে গেলেন অনন্যার। বিষয়টা পরিবারের কানে যেতেই জয়ের বাবা প্রথমে ছেলের অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু যখন জানলেন, অনন্যা সুন্দরীই নন, গুণীও, তখন আর দেরি করেননি। মাত্র চার দিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেল জয়ের সঙ্গে অনন্যার। বছরটা ছিল ২০০০।

তবে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল একেবারেই ঘরোয়া আয়োজনের মধ্যে। খুব বেশি লোকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু ভালবাসার অভাব ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কেও ফাঁক তৈরি হয়। ২০১০ সালে অনন্যা রাজনীতিতে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে, আর ২০১৪ সালে জয় বেছে নিলেন বিজেপিকে। আলাদা পথে হাঁটা শুরু হলেও অনন্যা কখনও প্রাক্তন স্বামীকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রাখেননি। জয়ের অসুস্থতার সময়ে তিনিই হাসপাতালে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

পরে, ২০১৯ সালে জয় নিজের থেকে ৩০ বছরের ছোট অঙ্কিতাকে বিয়ে করেন। জীবনের নানা অধ্যায় পার হয়ে শেষমেশ তিনি চলে গেলেন। সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবর অনন্যাকেও ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই প্রথম পরিচয়, প্রেম আর তড়িঘড়ি করে হওয়া বিয়ের স্মৃতিতে। একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক, সুখেন দাস আর অঞ্জন চৌধুরীর ছবির নায়কের বিদায় যেন থামিয়ে দিল সেই আলো ঝলমলে মঞ্চের গল্পকেও।