ধারাবাহিকের গল্প মাঝে মাঝে এতটাই প্রভাব ফেলে যে দর্শক চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন। একেবারে নিজেদের জীবনের অংশ করে নেন। ‘চিরসখা’ শুরু থেকেই তেমনই টানটান কাহিনি আর আবেগে ভর করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তাই হঠাৎ প্লুটোর মৃত্যুর মতো এক প্লট বদল স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে দিয়েছে দর্শকের মন। সিরিয়ালে এই অকালমৃত্যু যেন গল্পের স্রেফ একটা মোড় নয়, বরং দর্শকদের জন্যও একটা মানসিক ধাক্কা।
গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইছে একটাই প্রশ্ন নিয়ে—কেন মরতে হলো প্লুটোকে? সত্যিই কি মায়ের জন্যই আত্মহত্যা করল সে? নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও টুইস্ট? দর্শকদের ক্ষোভ আর কৌতূহল বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আলাদা করে আলোচনা ছড়িয়েছে সিরিয়ালের বাইরেও। ফ্যানপেজ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপ, সর্বত্র চলছে বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কলকাতার এক ক্যাফেতে দর্শকদের মুখোমুখি হয়েছিল ‘চিরসখা’র টিম। সেখানেও উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন—গল্প এগোনোর জন্য কি সত্যিই প্লুটোর মৃত্যু জরুরি ছিল? অনেকেই মনে করছেন, লেখিকা চাইলে অন্যভাবেও গল্পের মোড় ঘোরাতে পারতেন। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়?
এই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদমাধ্যমকে লীনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্লুটোর মৃত্যু কোনও হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। শুরু থেকেই এই প্লট নির্দিষ্ট ছিল। তাঁর মতে, গল্পের ভেতর দিয়ে একটা সামাজিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে—ছেলে-মেয়েদের সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও এই বক্তব্য দর্শকদের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত করতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ প্লুটোর চলে যাওয়া মানতে পারছে না দর্শক! মৌ বুঝতে চায়নি, প্রত্যাখ্যান করছে মিঠিও! মিঠি-মৌ’র লড়াইয়ের মাঝে শেষ হয়ে গেল প্লুটো! প্লুটোর মৃত্যুর দায় মিঠি না মৌ?
সবশেষে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আবার কি প্লুটো ফিরবে? দর্শকের আশা এখনও ছাড়েনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত দাবি উঠছে চরিত্রটিকে ফিরিয়ে আনার। যদিও এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি লীনা। তাই এখন দর্শকের ভরসা কেবল আগামী পর্ব। গল্পে নতুন চমক আসবে কি না, আর প্লুটো সত্যিই ফিরে আসবে কি না, সেই উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন সবাই।





