‘একটা সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকতাম, ভেতরে ঢুকতে দিতেন না’, সহ্য করতে হয়েছে রিজেকশন, জিতু কামালের লড়াইয়ের কাহিনী জানলে চমকে যাবেন

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু অনেক সময়ই সঠিক জায়গায় সঠিক সুযোগ পাওয়া হয়ে ওঠে না। জিতু কমল তার জীবনের পথচলাতেই এই অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি করে পেয়েছেন। আজ তিনি বাংলার জনপ্রিয় মুখ, একাধিক বড় প্রোজেক্টের অংশ। কিন্তু এর পেছনে যে অগণিত লড়াই, অপমান আর রাত জাগা পরিশ্রম লুকিয়ে আছে, সেটা অনেকেই জানেন না।

ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে জিতু কাজ করতেন থিয়েটারের আলো আর আবহসঙ্গীত সামলানোর দায়িত্বে। পাশাপাশি টুকটাক অভিনয় করলেও তার স্বপ্ন ছিল একদিন বড় মাপের পরিচালক হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তাকে অন্য পথে নিয়ে আসে। ছোটপর্দার ‘সাঁজবেলা’ সিরিয়ালে প্রথম বড় চরিত্রের সুযোগ পান তিনি। এরপর একে একে ‘ভোলা মহেশ্বর’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘মিলন তিথি’—সবই তাকে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ বানায়। তবে কেরিয়ারের প্রথম দিককার বছরগুলোতে একাধিকবার তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বড় প্রোজেক্ট থেকে। পরিচালক-প্রযোজকরা তাকে ভরসা করেননি, নতুন বলে সুযোগ দেননি।

এই সময়টা ছিল সবচেয়ে কঠিন। এক সাক্ষাৎকারে জিতু নিজেই বলেছেন, “একটা কাজের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকতাম, কিন্তু ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হত না। বড় পরিচালকরা সরাসরি ফিরিয়ে দিতেন।” অপমান গায়ে না মেখে তিনি লেগে থেকেছেন। দিনরাত অনুশীলন, নিজের দক্ষতা বাড়ানো আর ধৈর্যই তাকে আজকের জায়গায় এনে দিয়েছে।

তার জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল অনীক দত্তর পরিচালিত ছবি ‘অপরাজিত’। সেখানে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের হাঁটা, বসার ভঙ্গি, এমনকি দাঁতের কাঠামো পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে গৃহবন্দী করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন জিতু। সমালোচকরা প্রথমে সন্দেহ করলেও পোস্টার বেরোনোর পর সকলে একবাক্যে স্বীকার করেছিলেন, “এ যেন সত্যিই মানিক বাবু।”

আরও পড়ুনঃ ‘আট মাসে না নয় মাসে, বৈধ না অবৈধ? বিয়ের আগেই কি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গিয়েছিলেন শ্রীময়ী?’ প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুললেন শ্রীময়ী!

আজ তিনি বড়পর্দায় যেমন জনপ্রিয়, ছোটপর্দায়ও সমানভাবে প্রশংসিত। ‘গৃহপ্রবেশ’-এর মেঘদূত বা ‘আর্য সিংহ রায়’ হয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে এত সাফল্যের মাঝেও তার ক্ষোভ একটাই—“নতুনদের যদি সুযোগই না দেওয়া হয়, তবে তারা অভিজ্ঞতা পাবে কীভাবে?” জিতু কমলের জীবনের এই লড়াই আসলে প্রমাণ করে দেয়, প্রতিভাকে থামানো যায় না, সুযোগ পেতে সময় লাগলেও একদিন সেই প্রতিভাই ছাপিয়ে যায় সব বাধা।