বিবাহিত হলেই কি শুধু সিঁদুর খেলতে পারা যায়? এই প্রশ্নটাই যেন প্রচলিত ধারণার ভিত কাঁপিয়ে দিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। দুর্গাপুজোর আবহে যখন সব কিছুই উজ্জ্বল, আনন্দমুখর, তখনই নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর মতামত সামনে আনলেন তিনি। সমাজের চোখে সিঁদুর মানে শুধুই বিবাহিত মহিলাদের পরিচয়। কিন্তু সুস্মিতার কথায়, “সিঁদুর হল শক্তির প্রতীক। সংসার, শাঁখা, সিঁদুর আমি ভীষণ ভালবাসি। তা হলে কেন আমি খেলতে পারব না?”
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, পুজোর সময় হয়তো তাঁকে খোলামেলা আনন্দে দেখা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটছে। নিজের ব্যবসা আর রূপটান কর্মশালার কাজে তিনি ভীষণ ব্যস্ত। তবুও মা-কে নিয়ে বাজার করা, অঞ্জলি দেওয়া—সবকিছুই তাঁর জীবনের অপরিহার্য অংশ। সুস্মিতা স্পষ্ট জানালেন, “ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আমি মানুষ তো। মনখারাপ হতেই পারে, তবে তাই বলে উৎসব থেকে দূরে সরে যাব কেন?”
সবচেয়ে বড় চমক তাঁর সিঁদুরখেলা প্রসঙ্গে। উত্তর কলকাতার পূজোমণ্ডপে প্রতি বছর সিঁদুর খেলেন তিনি। সমাজে যে অলিখিত নিয়ম চলে আসছে—শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারাই সিঁদুর খেলতে পারবেন—তাতে তিনি বাঁধা মানেন না। তাঁর যুক্তি একেবারেই সহজ, “সিঁদুর শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, শক্তি আর নারীত্বেরও প্রতীক।” এই বক্তব্য অবশ্য অনেকের কাছে সাহসী, আবার অনেকের কাছে বিতর্কিত। কারণ অনেকেই এখনও বিশ্বাস করেন, একবার সিঁদুর মুছে গেলে সেই অধিকারও মুছে যায়।
কিন্তু সুস্মিতা যেন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বলছেন, নারীর পরিচয় শুধু বৈবাহিক অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি মা, তিনি কন্যা, তিনি পেশাদার, এবং তিনি একজন স্বাধীন মানুষ। সিঁদুর নিয়ে তাঁর ভালবাসা একেবারেই ব্যক্তিগত, তবুও এর মধ্যে সমাজের কড়া প্রশ্ন লুকিয়ে আছে—মেয়েদের আনন্দ, রীতি বা উৎসব পালনের অধিকার কি শুধুই তাদের বৈবাহিক পরিচয়ের উপর নির্ভর করবে?
আরও পড়ুনঃ ফের শিরোনামে উর্ফী! সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিকৃত ছবি! সরাসরি দেওয়া হচ্ছে হুমকি!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ বছরও কি তাঁকে দেখা যাবে সেই উত্তর কলকাতার সিঁদুর খেলায়? সুস্মিতার আত্মবিশ্বাসী উত্তর ইঙ্গিত দিচ্ছে—হ্যাঁ, যাবেনই। আর এই উত্তরই হয়তো নতুন করে ভাবাবে সবাইকে।





