এবার মনে হচ্ছে ছোটপর্দায় আবার নতুন বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠল। কয়েক বছর আগেই অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীর দেখিয়ে জনপ্রিয় হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সেই মন্তব্য ঘিরেই টলিপাড়ায় তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। কেউ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, কেউ আবার উল্টো সমালোচনা করেছিলেন। এখন আবার শ্বেতার পরেই একইরকম সুরে আওয়াজ তুললেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শ্বেতার পথেই কি হাঁটলেন শ্রুতি?
জি বাংলায় সদ্য শুরু হয়েছে শ্রুতি দাস ও আরাত্রিকা মাইতি অভিনীত নতুন ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাটা’। প্রায় দুই বছর পর ছোটপর্দায় কামব্যাক করেছেন শ্রুতি। আর সেই ধারাবাহিকের চরিত্রের পোশাকেই কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি এমন এক লেখা শেয়ার করেছেন যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি একজন রানী, আমার শরীর দেখানোর দরকার নেই। আমি জানি আমার মূল্য কী, এই দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন সব আমার মধ্যেই আছে। তোমার মনোযোগের প্রয়োজন আমার নেই।” স্পষ্টতই এই বক্তব্য অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে শ্বেতার আগের মন্তব্য।
কিন্তু এখানেই থামেননি শ্রুতি। তিনি আরও লিখেছেন, “আমি সেই সিংহী, যে বাকিদের জন্য লড়াই করেছে। আমি ফিনিক্স, ছাই থেকে আবার উঠে এসেছি। নিজের সাম্রাজ্য গড়েছি। আমার একমাত্র ড্রামা হলো চোখের পাপড়ি।” শুধু তাই নয়, শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করে লিখেছেন, “আমি তোমার চোখের মিষ্টি সাজ নই, আমি আত্মার খাবার। আমি আমার বুদ্ধি দিয়ে তোমার ভেতরের সত্য দেখে ফেলি। আমি আমার খেলার নিয়ম বদলেছি, যেমন বলেছিলাম। সময়ের সঙ্গে ভাগ্যও বদলে যায়, ভালবাসতে থাকো।”
এখন প্রশ্ন উঠছে—এই লেখাটা কি কেবল তাঁর ধারাবাহিকের চরিত্রকে কেন্দ্র করেই, নাকি শ্রুতি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকেই শব্দে ফুটিয়েছেন? কারণ তাঁর জীবনের নানা ওঠাপড়ার সঙ্গে এই পোস্টের অনেকটা মিলে যায়। ‘ত্রিনয়নী’ ধারাবাহিক থেকে শুরু করে বড়পর্দা, ওয়েব সিরিজ—সব জায়গায়ই তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়েছেন। কখনও ‘ডাইনি’ সিরিজে তুখোড় অভিনয়, কখনও আবার ‘আমার বস’ ছবিতে নতুনরকম চরিত্র বেছে নিয়ে নজর কেড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ হিন্দিতে কেন এলো না গুপী গাইন বাঘা বাইন? কারণটা জানলে অবাক হবেন আপনিও!
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যই এখন সবার আলোচনার কেন্দ্র। কেউ বলছেন, শ্রুতি আসলে নিজের বক্তব্যে সাহস দেখিয়েছেন। আবার কেউ মনে করছেন, তিনি ইচ্ছে করেই বিতর্ক টেনে আনছেন। শ্বেতার পর এবার শ্রুতির এই লেখালিখি প্রমাণ করল, টলিপাড়ায় খোলামেলা পোশাক, শরীর প্রদর্শন আর আত্মসম্মান নিয়ে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। বরং নতুন করে আগুন জ্বালাচ্ছে।





