নয়ের দশকে টালিগঞ্জে যে নায়িকা মানেই ছিলেন সংসারী বউ, বড় টিপ কপালে আঁকা “ভদ্র ঘরের মেয়ে”—সেই গণ্ডি ভেঙে একদিন হাজির হয়েছিলেন এক তরুণী। শরীরী উপস্থিতি আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যেন বাতাস কেটে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। নাম জুন। পদবী তখন ছিল দুবে, কিন্তু দর্শকের মনে তিনি চিরকাল জায়গা করে নিলেন জুন মালিয়া নামেই। আজও তাঁর পরিচয় সেই পদবী দিয়ে, যদিও অনেকেই জানেন না, এ নামের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
এলাহাবাদ থেকে কলকাতা, বাঙালি মা আর রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা জুনের জীবনে প্রথম বাঁক আসে দেহরাদুনে। সেখানেই পিসির বাড়িতে পরিচয় হয় সঞ্জীব মালিয়ার সঙ্গে। শুরুর দিকে পাত্তা দেননি সঞ্জীব, কিন্তু ভাগ্য যেন নিজের খেলা খেলছিল। আবার দেখা, আবার মিলন। কলেজ পড়ুয়া প্রাণবন্ত মেয়েটি হঠাৎ করেই প্রেমে পড়লেন। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই মাতৃত্ব। কিন্তু সেই সুখের ছবির আড়ালেই ছিল অন্য এক বাস্তবতা।
জুন যখন নাচতে চাইতেন, তাঁকে বলা হত অযথা বাড়াবাড়ি। গাড়ি চালাতে চেয়েছিলেন, শোনা গিয়েছিল ব্যঙ্গ। অভিনয়ে আগ্রহ দেখালে স্বামীর উত্তর ছিল, “তুমি পারবে না, ফিরে আসবে।” এমন খোঁচা আর অবিশ্বাসের দেয়ালে ঠেকে একসময়ের স্বপ্নবাজ মেয়েটি শুধু সংসার সামলাতে গিয়েই হারাতে লাগলেন নিজেকে। ছয় বছরের মধ্যে বুঝলেন, অন্যকে খুশি করতে করতে নিজের জীবনটাকেই তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
কিন্তু এখানেই বদল। সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে বেরিয়ে এলেন সংসারের বাঁধন থেকে। সহজ ছিল না, বরং নিঃসঙ্গতার দায় আরও কঠিন করে তুলেছিল পথচলাকে। সমাজের চোখ রাঙানি, দুই সন্তানের দায়িত্ব—সবকিছুর মাঝেই নিজের লড়াই শুরু করেছিলেন জুন। সেই বিদ্রোহী পদক্ষেপই তাঁকে বানায় আজকের জুন মালিয়া। অভিনেত্রী, জননেত্রী, এবং স্বাধীন নারী হয়ে ওঠার পথটা তৈরি হয় সেদিনই।
আরও পড়ুনঃ এই বয়সেই চিনে ফেলেছে টাকা! অন্নপ্রাশনে ঘটিয়েছে বিরাট কান্ড! ছেলেকে নিয়ে কি বললেন মানসী?
তবু আজও নামের সঙ্গে জুড়ে আছে সেই “মালিয়া” পদবী। অনেকে বলেন, কেন আগের স্বামীর পদবি এখনও ব্যবহার করেন তিনি? এর উত্তর জুনের কাছেই হয়তো। হয়তো এ নামটাই তাঁর লড়াইয়ের স্মারক, সেই অতীতের দাগ, যা মুছে ফেললেও ভুলে যাওয়া যায় না। ২০১৯ সালে আবার বিয়ে করেন তিনি—সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, ইতিহাসখ্যাত সেনগুপ্ত পরিবারের প্রপৌত্র। আজ সংসার, সন্তান, রাজনীতি—সব সামলাচ্ছেন নিজের মতো করে। তবু বিতর্ক থেকে যায়—জুন কি নিজের নতুন পরিচয়কে আড়াল করে পুরোনো নাম ধরে রেখেছেন, নাকি “মালিয়া” নামটাই তাঁর আসল যুদ্ধজয়ের সাক্ষ্য?





