দীপাবলির রাতে যজ্ঞে বসে চমকে দিলেন পরমব্রত! ঈশ্বরভক্তি নাকি নতুন আধ্যাত্মিক যাত্রার শুরু?

দীপাবলির আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় যখন গোটা শহর বাজির শব্দে মুখর, তখন অন্য এক পরিবেশে ধ্যানমগ্ন দেখা গেল অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। সামনে জ্বলছে পবিত্র অগ্নিকুণ্ড, তাঁর সামনে বসানো পূজার সামগ্রী। আর মাঝখানে বসে শান্ত মুখে যজ্ঞ করছেন অভিনেতা নিজে। ঠিক এই ছবিটিই সোমবার রাতে ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই অবাক—এই পরমব্রত, যাঁকে এত দিন মুক্তমনা, যুক্তিবাদী বলে চিনত টলিপাড়া, তিনিই এখন যজ্ঞে বসেছেন!

এর আগেও অবশ্য তাঁকে দেখা গিয়েছে কালীপুজোয় ঢাক বাজাতে, কপালে লাল তিলক পরে দেবী আরাধনায় অংশ নিতে। কিন্তু বাড়িতে যজ্ঞের আয়োজন এবারই প্রথম। বিষয়টি ঘিরে কৌতূহলও বেড়েছে টলিউড মহলে। অনেকে জানতে চেয়েছেন, হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন? আনন্দবাজার অনলাইন পরমব্রতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী, পিয়া চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “পরম বরাবরই ঈশ্বরভক্ত। দেবী কালীকে খুব মানে। আমাদের বাড়িতেও ঠাকুরঘর আছে। সেখানে নিয়মিত ধুপ-ধুনো দেওয়া হয়। পরম নাস্তিক—এই ধারণা একেবারেই ভুল।”

তবে পিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমাদের বাড়িতে কালীপুজো হয়নি, শুধু হোমের আয়োজন ছিল। পরমর ইচ্ছাতেই সেই যজ্ঞ করা হয়।” তাঁর কথাতেই পরিষ্কার, এই আচার ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ, কোনও প্রচারের উপায় নয়। সম্প্রতি অভিনেতার গলায় দেখা গিয়েছে লাল সুতোয় বাঁধা এক মাদুলি। তাই অনেকেই ভাবছেন, ক্রমশ কি ঈশ্বরবিশ্বাসে গভীর হচ্ছেন পরমব্রত? এ প্রশ্নে অবশ্য পিয়া হেসে বলেন, “ভক্তি একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি তেমন ঈশ্বরবিশ্বাসী নই, কিন্তু পরমের বিশ্বাসকে আমি সম্মান করি। ও-ও কখনও আমার ভাবনাকে বদলাতে চায়নি।”

আসলে, পরমব্রতকে ঘিরে এই কৌতূহল নতুন নয়। গত দু’বছর ধরে ভূত চতুর্দশীতে তিনি দর্শকদের দিয়েছেন রহস্য-ভৌতিক সিরিজ়ের উপহার। তাই অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন—যিনি ভূত নিয়ে কাজ করেন, তিনি কি সত্যিই এসব মানেন? সেই সময়ই পরম জানিয়েছিলেন, “আমি আলাদা করে পুজো দিতে যাই না। তবে কোথাও বেড়াতে গেলে ঐতিহাসিক মন্দির বা মসজিদ থাকলে সেটা দেখতে যাই। ধর্মীয় স্থান মানে আমার কাছে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তি।” তাঁর কাছে কালীপুজোর গুরুত্ব তাই দ্বিগুণ—শৈশবে আতসবাজির আনন্দ, আর এখন দেবী কালিকার রুদ্ররূপের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

অভিনেতার কথায়, “মা কালিকার মতো দেবী বিরল। তিনি শক্তির প্রতীক। কখনও কোমল, কখনও কঠিন। বাঙালিরা দশমহাবিদ্যার পূজার মাধ্যমে নারীশক্তিকেই প্রণাম জানায়।” ছোটবেলার স্মৃতিচারণাও করেছেন পরমব্রত। জানিয়েছেন, মা সুনেত্রা ঘটকের জীবিত থাকাকালীন তিনিই প্রথম তাঁকে কালীঘাটের মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলেন। “মায়ের সঙ্গে বার কয়েক গিয়েছিলাম। তখন থেকেই ওই মন্দিরের সঙ্গে এক অদ্ভুত আত্মিক টান তৈরি হয়ে গিয়েছে,” বলেন অভিনেতা।

হয়তো এই আত্মিক টানই আজও তাঁকে ডাকে। তাই দীপাবলির ঝলমলে আলোয় অন্যদের মতো বাজি বা পার্টি নয়, পরমব্রতের সন্ধ্যা কেটেছে মন্ত্রোচ্চারণ আর অগ্নিহোমের আধ্যাত্মিক আলোয়।