বলিউডের কিং শাহরুখ খানকে আমরা দেখি পর্দায় সব সময় হাসিমুখে। কিন্তু এক সময় তাঁর জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। মন খারাপ, হতাশা আর ব্যর্থতার যন্ত্রণা তাঁকে কাঁদিয়েছে ঠিক সাধারণ মানুষের মতোই। ২০১৪ সাল—আইপিএলের আবু ধাবি পর্বে টানা পরাজয় দেখে মুষড়ে পড়েছিলেন কেকেআর মালিক শাহরুখ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, হারটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরেই দুই সন্তানকে জড়িয়ে কাঁদতেন। বলেছিলেন, “আবার হারলাম। কী যে দুঃখ হতো!”
কিন্তু জীবন সব সময় একই জায়গায় থেমে থাকে না। ভারত ফিরে আসতেই সেই হতাশাই পরিণত হয় জয়ের মন্ত্রে। কেকেআর যেন জাদুকরি পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে—টানা জয়। আর সেই সিজনেই কেকেআর জিতে নেয় আইপিএল কাপ। সেই অভিজ্ঞতা আজও শাহরুখের কাছে জীবনের বড় শিক্ষা। তাঁর কথায়, “জীবন এমনই। কখনও হার, কখনও জয়। কিন্তু হার মানলে চলবে না।”
কিন্তু মাঠের ব্যর্থতা থেকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দুঃসময়—দুটি পথই শাহরুখকে একইভাবে বিষণ্ণ করেছিল। মাঝের কয়েক বছর বলিউডে একের পর এক ছবি ফ্লপ করেছিল। ‘জিরো’ ছিল সেই ব্যর্থতার শেষ ধাপ। মানুষ যেন তাঁর ছবি দেখতে চায় না। হতাশ হয়ে তিনি ঠিক করেছিলেন সিনেমা নয়—বরং রেস্তোরাঁর ব্যবসা করবেন।
কিন্তু রাজারা হার মানেন না। চার বছর বিরতির পর তিনি ফিরে এলেন ‘পাঠান’ নিয়ে। আর ফিরে আসা মানেই ঝড়—বক্স অফিস কাঁপিয়ে আবার প্রমাণ করলেন, কিং ইজ কিং। সেই কামব্যাক আবার ফিরিয়ে দিয়েছে বলিউডের হারানো আত্মবিশ্বাস।
আরও পড়ুনঃ জেহর ছোট্ট হিরো! পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা থেকে বাবাকে বাঁচাল সইফ
আজ শাহরুখ ব্যস্ত তাঁর নতুন ছবি ‘কিং’ নিয়ে। তাঁর গল্পটা শুধু একজন তারকার গল্প নয়—ভেঙে যাওয়া মানুষ কীভাবে আবার দাঁড়ায়, সেটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কারণ শাহরুখ নিজেই বলেছেন—
“জীবন থেমে যায় না। হার হোক বা জয়—খেলতে থাকো।”





