‘স্বপ্নে এলেন সাই বাবা, বাবার নির্দেশেই ১০৮টি লাড্ডু দিয়ে…’ স্বয়ং ঈশ্বরের স্বপ্নাদেশ পেয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর?

মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) আমাদের বাংলার একজন অত্যন্ত গুণী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর ও অমলা শঙ্করের মেয়ে। সত্যজিৎ রায়ের মতো বড় বড় পরিচালকদের সিনেমায় অভিনয় করে তিনি সবার মন জয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পীও বটে। পর্দার বাইরেও তাঁর শান্ত স্বভাব এবং সাধারণ জীবনযাপন মানুষকে খুব মুগ্ধ করে।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে মমতা শঙ্কর তাঁর বাড়িতে গণেশ পুজো শুরু করার পেছনের এক অদ্ভুত গল্পের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, তিনি বরাবরই সাই বাবার ভক্ত। একদিন সাই বাবা তাঁকে স্বপ্নে এসে বলেন গণেশ পুজো শুরু করতে। বাবার সেই নির্দেশ মেনেই তিনি ধুমধাম করে পুজো শুরু করেন এবং ১০৮টি লাড্ডু প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করেন। তাঁর কাছে এই পুজো মানে কেবল নিয়ম পালন নয়, বরং মনের গভীর থেকে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা।

পুজোর আলোচনার পাশাপাশি তিনি মানুষের স্বভাব নিয়েও খুব সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তার অহংকার। মমতা শঙ্করের মতে, একজন মানুষ যতই বড় শিল্পী বা সফল হোন না কেন, যদি তাঁর মনে বিনয় না থাকে তবে সেই সাফল্যের কোনো দাম নেই। তিনি আজকের বাবা-মায়েদের অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁরা সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই বড়দের শ্রদ্ধা করা এবং ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেন।

মমতা শঙ্কর খুব চমৎকারভাবে বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতাকে মিলিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যেমন খালি চোখে অক্সিজেন দেখতে পাই না কিন্তু জানি যে গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং তা ছাড়া আমরা বাঁচব না ঠিক তেমনই ঈশ্বরের শক্তিও অদৃশ্য কিন্তু তা আমাদের জীবন পরিচালনা করে। তিনি মনে করেন, ধর্ম মানেই কুসংস্কার নয়, বরং এর পেছনে গভীর জীবনমুখী বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে।’

সবশেষে অভিনেত্রী বলেছেন আধুনিক হতে গিয়ে অনেক সময় আমরা আমাদের ঐতিহ্য ভুলে যাই। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকে যদি সন্তানদের মধ্যে নম্রতা, ভদ্রতা এবং ভক্তি জাগিয়ে তোলা যায়, তবেই তারা ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। তাঁর মতে, মানুষের আসল পরিচয় তার পোশাকে নয়, বরং তার আচরণে।