ছোটপর্দায় নতুন আবেগের ঢেউ তুলেছে প্রযোজক স্নেহাশিস চক্রবর্তীর ধারাবাহিক বেশ করেছি প্রেম করেছি। মূল গল্পে রয়েছে এই প্রজন্মের স্কুলজীবনের প্রেম, কিন্তু তার পাশাপাশি এগোচ্ছে আরেকটি গভীর মানবিক সম্পর্কের গল্প। একা বাবা অনুরাগ তার একমাত্র সন্তান চিরাগকে নিজের হাতে বড় করছে। শিশুর হাত ধরেই তার জীবনে আসে পুলিশ অফিসার কাজল ঘোষ। ছোট্ট ছেলের ইচ্ছে, কাজল যেন তার মায়ের জায়গা নেয় এবং বাবার জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
ছোটপর্দার দর্শক সাধারণত নায়ক নায়িকার প্রেমকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁদের সম্পর্কের ওঠা নামা দর্শকের আবেগকে ছুঁয়ে যায়। কিন্তু এই ধারাবাহিকে যেন চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূল প্রেমের গল্পকে ছাপিয়ে দর্শকের মন জয় করছে অনুরাগ এবং কাজলের নীরব সম্পর্ক। একা বাবার সংগ্রাম, সন্তানের মায়া আর নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক উষ্ণ আবেগ। দর্শক সেই অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারছেন বলেই এই গল্প এত দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এই অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রযোজকের মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, সমান্তরাল গল্পটি দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক বেশ কিছু দৃশ্য সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ছোটপর্দায় একা মাকে নিয়ে বহু গল্প তৈরি হলেও একা বাবার জীবন খুব কমই তুলে ধরা হয়। দর্শকের এই ইতিবাচক সাড়া ভবিষ্যতে নতুন গল্পের পথ খুলে দিতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
এই আবেগঘন গল্পকে জীবন্ত করে তুলেছেন অনুরাগ ও কাজলের চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা। অনুরাগের ভূমিকায় ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এবং কাজল ঘোষের চরিত্রে রূপসা চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই দর্শকের মন জয় করেছেন। ভাস্বর জানিয়েছেন, একা বাবার চরিত্র তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রটির আবেগ ও বাস্তবতা বোঝার জন্য তিনি পরিচালকের নির্দেশনাকেই অনুসরণ করছেন এবং এই চ্যালেঞ্জ উপভোগ করছেন।
আরও পড়ুনঃ জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে পর্দার খলনায়িকা! অদম্য ইচ্ছে শক্তিতে ভরপুর নবনীতা মালাকারের জীবন!
রূপসার কথাতেও মিলেছে একই আনন্দের সুর। বহুবার একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রসায়নকে আরও স্বাভাবিক করেছে। ফলে পর্দার সম্পর্ক আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে দর্শকের কাছে। পুরনো জুটি হওয়ায় তাঁদের অভিনয়ে সহজ স্বতঃস্ফূর্ততা রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। দর্শকের ভালবাসাই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নতুন ধরনের সম্পর্কের গল্প যে ছোটপর্দায় এতটা আবেগ ছড়াতে পারে, এই সাফল্য যেন তারই প্রমাণ।





