অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায় (Samrat Mukherjee) বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের একজন অত্যন্ত পরিচিত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি একটি নামী অভিনয় প্রশিক্ষণ সংস্থাও পরিচালনা করেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের সমীকরণ এবং অভিনয়ের কারিগরি দিক সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান রয়েছে। বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত সম্রাট টলিউডের ভালো-মন্দ নিয়ে সরাসরি কথা বলতে দ্বিধা করেন না, যা মাঝেমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সম্রাট মুখোপাধ্যায় বাংলা সিনেমার বর্তমান ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানান যে, বর্তমানে এমন কোনো প্রকৃত প্রযোজক নেই যিনি বাংলা সিনেমায় বিনিয়োগ করে তাঁর আসল টাকা লাভসহ ফেরত পাচ্ছেন। তাঁর মতে, যারা সত্যিকারের নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বা লগ্নিকারীদের সহায়তায় সিনেমা বানাচ্ছেন, তারা দিনের শেষে চরম আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পথও রুদ্ধ হয়ে আসছে বলে তিনি মনে করেন। সম্রাটের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে কোনো বুদ্ধিমান মানুষ বা দূরদর্শী লগ্নিকারী আর বাংলা সিনেমায় টাকা ইনভেস্ট করতে চাইছেন না। কারণ তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, এখান থেকে বিনিয়োগ করা মূলধন ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টলিউডের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে।
সিনেমা হলের করুণ অবস্থার পাশাপাশি তিনি তথাকথিত ‘সাকসেস পার্টি’ বা সাফল্য উদযাপনের সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে এক সপ্তাহও ঠিকমতো চলেনি অথবা দর্শক টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, অথচ সেই ছবির নামেই জাঁকজমকপূর্ণ পার্টির আয়োজন করা হচ্ছে। এই ধরনের উদযাপনে মদের ফোয়ারা আর গ্ল্যামারের ঝলকানি থাকলেও, সিনেমার আসল বাণিজ্যিক সাফল্য যে সেখানে অনুপস্থিত, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বাবা মায়ের ২৭ বছরের ভালোবাসাকে কুর্নিশ’- মা-বাবার বিবাহ বার্ষিকীতে আবেগঘন পোস্ট দিতিপ্রিয়ার!
পরিশেষে, সম্রাট মুখোপাধ্যায় এই বৈপরীত্যের অবসান চেয়েছেন। তাঁর মতে, পার্টিতে সুন্দরী নারী আর মদের আয়োজন থাকলেও যা সবথেকে বেশি জরুরি অর্থাৎ ছবির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ তা কিন্তু প্রযোজকের পকেটে পৌঁছাচ্ছে না। এই কৃত্রিম সাফল্যের আড়ালে আসল সত্যটি হলো ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে এক গভীর অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য বাংলা সিনেমা জগতের প্রযোজকদের নিরাপত্তা এবং চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।





