যাদবপুর স্টেশন রোডে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রবিবার রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বেআইনি দখল ও হকার উচ্ছেদের অংশ হিসেবে এলাকায় বুলডোজার চালানো হয় এবং একের পর এক দোকান ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা বহু মানুষের রুজিরুটি এক রাতেই বিপদের মুখে পড়ে। এই অভিযানের প্রতিবাদে বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নামেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়।
ঘটনার পর যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, কোনও আগাম আলোচনা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপে বহু সাধারণ মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন নিয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
সায়নী ঘোষের বক্তব্যে উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের প্রতি সহানুভূতির সুর থাকলেও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ অন্য জায়গায়। তাঁদের দাবি, যখন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছিল এবং বহু পরিবার সমস্যায় পড়েছিল, তখন সাংসদকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতিক্রিয়া সামনে আসার পরও অনেকের মধ্যে অসন্তোষ থেকেই গিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংকটের সময়ে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি উপস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
হকার সংগঠনগুলিও পুনর্বাসনের বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছে। তাঁদের বক্তব্য, শহরের রাস্তা ও ফুটপাত নিয়ে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যাঁরা বছরের পর বছর ধরে ছোট ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চালিয়েছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি। হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনগুলির।
আরও পড়ুনঃ প্রিয়ঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি! অভিনেত্রীর রুক্ষ আচরণে অপমানিত আন্তর্জাতিক শিল্পী?
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনই স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর রয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য কোনও পুনর্বাসন পরিকল্পনা বা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।





