অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু এখনও নাড়া দেয় টলিপাড়াকে। ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার, ছেলে সহজ এবং অন্যান্য সদস্যদের উপর। ঘটনার আড়াই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও প্রশ্ন উঠছে।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন প্রিয়াঙ্কা। সম্প্রতি তাঁকে একের পর এক ওয়েব সিরিজে দেখা যাচ্ছে। হইচইয়ের ‘কুহেলি’র পর এবার জি ফাইভের ‘তারকাটা’ সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। সিরিজের প্রচারে এসে নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথাও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, জীবনে ভালো থাকার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নিজেরই। অন্যের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখাই তাঁর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি। তিনি জানান, কাজ তাঁকে ব্যস্ত রাখছে এবং মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে। দর্শক, সহকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেটে। দীর্ঘ প্রেমের পর ২০১০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তাঁদের জীবনে আসে ছেলে সহজ। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে এবং ২০১৭ সালে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন দুজন। বিচ্ছেদের দিকেও এগোলেও সন্তানের কথা ভেবে পরে আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ দিনের পর দিন ক্যা’ন্সারের সঙ্গে লড়াই! পর্দা থেকে দূরে হাসপাতালের বিছানায় বন্দী জীবন! চিকিৎসার য’ন্ত্রণা সামলে কেমন আছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী?
কিন্তু সেই নতুন শুরু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন রাহুল। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান।





