টলিউডের (Tollywood) অন্দরের সিন্ডিকেট রাজ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বর্তমান বিনোদন দুনিয়া উত্তাল। সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তথা প্রযোজক অস্মিতা শাসকদলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসতেই টলিপাড়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক প্রভাব এবং টালবাহানার চিত্রটি আরও একবার প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এসেছে।
অভিযোগের মূল সূত্রপাত একটি ফুড কার্ট বা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। অস্মিতা জানান, কলকাতার ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের কাছে তাঁর একটি ছোট খাবারের দোকান খোলার জন্য কিছু সরকারি অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেই পারমিশনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে সরাসরি সাউথ কলকাতার প্রভাবশালী নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে কোনো বৈধ নথিপত্র বা আইনি প্রক্রিয়ার ধার না ধেরে, দোকান চালুর ব্যবস্থা করে দেওয়ার বদলে সরাসরি ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এর পাশাপাশি প্রতি বছর সুরুচি সংঘের পুজোয় মোটা অঙ্কের চাদা দেওয়ার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়।
কথোপকথন বা চুক্তি যাতে কোনোভাবে ফাঁস না হতে পারে, তার জন্য সুরুচি সংঘের ক্লাবে নেওয়া হতো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অস্মিতা জানিয়েছেন, সেখানে দেখা করতে আসা প্রত্যেকেই তাঁরা পুরুষ হোন কিংবা মহিলা বাইরে নিজেদের মোবাইল ফোন এবং ব্যাগ জমা রাখতে বাধ্য হতেন। বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে না পারায় স্বরূপ বিশ্বাস তাঁকে পরের দিন সন্ধ্যায় একান্তে সুরুচি সংঘের ক্লাবে দেখা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের আবহে একাকী খাট-বিছানা সম্বলিত ঘরে দেখা করার এই প্রস্তাবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় অভিনেত্রী আর সেখানে যাননি।
আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি টলিউডকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো, সেই বিষয়েও সরব হয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, যারা শাসকদলের বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত হাজিরা দেন বা প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ, তাঁরা যোগ্যতা না থাকলেও একের পর এক মেগা সিরিয়ালে সুযোগ পেয়ে যান। অন্যদিকে, সাধারণ শিল্পী ও স্বনির্ভর প্রযোজকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হতো। ফেডারেশনের ভয়ে টেকনিশিয়ানরা এত আতঙ্কে থাকতেন যে, নিজের বাড়িতে ছোটখাটো ইউটিউব প্রজেক্টের শুটিং করার সময়ও তাঁদের প্রায় লুকিয়ে করতে হতো।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি দৌড়ে বাজিমাত ‘জোয়ার ভাঁটা’র! শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিল কোন কোন ধারাবাহিক? দেখে নিন এই সপ্তাহের জমজমাট টিআরপি তালিকা!
এতদিন কেন তিনি চুপ ছিলেন, সেই প্রসঙ্গে অস্মিতা জানান যে তৎকালীন সময়ে এই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে টলিপাড়ায় কাজ পাওয়া চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত। এমনকি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও প্রভাবশালী যোগের কারণে পুলিশ কোনো ডায়েরি নিত না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভয় কাটিয়ে তিনি নিজের আইনি পরামর্শদাতার সাহায্যে এফআইআর দায়ের করেছেন। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষ এবং টলিউডের অন্যান্য শিল্পীদের মনেও প্রশ্ন উঠছে যে, ক্ষমতার আড়ালে থাকা এই দুর্নীতি ও ভয়ের পরিবেশ থেকে টলিপাড়া কবে সম্পূর্ণ মুক্তি পাবে।





