রিয়েলিটি শোয়ের (Reality Show) গতকালের পর্বে শুরু থেকেই নাটকীয়তার শেষ ছিল না। পর্বের গোড়াতেই অনুষ্কা ও নন্দিনীর মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অনুষ্কা বিভিন্নভাবে নন্দিনীকে ছোট করার চেষ্টা করে এবং তার অতীতের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আজেবাজে ইঙ্গিত তোলে। তবে নন্দিনীও ছেড়ে কথা বলার পাত্রী নয়, সে তখনই যোগ্য জবাব দেয়। দুজন মানুষের এই চরম বচসা পুরো ঘরের পরিবেশ বেশ গরম করে তোলে।
এরপর ঘরের পরিবেশ বদলাতে শুরু হয় একটি মজার কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক খেলা। দুর্নিবার, নিরঞ্জন এবং রাজবীরের মধ্যে এই খেলাটি হয়। বিজয়ীর জন্য পুরস্কার হিসেবে রাখা ছিল এক বছরের জিম প্রশিক্ষণ এবং ১০ হাজার টাকার উপহারের রসিদ। সাপ-লুডো খেলার আদলে তৈরি এই প্রতিযোগিতায় বুদ্ধিমত্তা ও ভাগ্যের জোরে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয় দুর্নিবার।
ক্যাপ্টেন বা অধিনায়ক নির্বাচনের পর্ব আসতেই শুরু হয় আসল কৌশল ও জটিলতা। অধিনায়কত্ব পাওয়ার ভিত্তি হিসেবে শুরু হয় ‘পুতুল খেলা’। এই খেলায় দুর্নিবার শুরু থেকেই সৃজলার পুতুলকে সুরক্ষিত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। অন্যদিকে সৃজলা হয়তো জিতুর হাত থেকে দুর্নিবারের পুতুলকে শেষ পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখতে পারেনি, কিন্তু যেভাবে সে জিতুর সঙ্গে তর্ক ও ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিল, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার সৃজলা মনে-প্রাণে দুর্নিবারকেই সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল। এর ফলে জিতুর সঙ্গে সৃজলার বন্ধুত্বেও যে ফাটল ধরেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্যদিকে মনামির ভাগ্য যেন কিছুতেই সাথ দিচ্ছে না। প্রায় প্রতিটি অধিনায়কত্বের খেলায় সে একের পর এক বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হচ্ছে। তাকে সেভাবে কেউ সাহায্য করে না। অনেক কষ্ট করে জোট বা আঁতাত গড়ে তুললেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে কেউ আর তাকে প্রাধান্য দেয় না। সোজা কথায়, মনামির পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ঘরের কোনো দলেই তার সঠিক মূল্যায়ন বা জায়গা হচ্ছে না। রাজবীর ও জিতুর দল তাকে কোনোমতে একটু খাতির করলেও, দুর্নিবারের দলে গেলে তার অবস্থা আরও কঠিন। ওই দলের সিংহভাগ সদস্যই মনামিকে পছন্দ করে না, ফলে সেখানে নিজের জায়গা তৈরি করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
আরও পড়ুনঃ ভোট চু’রি থেকে জিনিসপত্র ভাঙচুর, রিয়েলিটি শোয়ের ঘরে চরম অরাজকতা! কাঠগড়ায় রাজবীর!
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো খেলাই এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেখানে জোট বা দলের সমর্থন ছাড়া এককভাবে জয়ী হওয়া বেশ কঠিন। প্রায় সবকটি অধিনায়কত্বের খেলাই দলগত কৌশলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোটে মার খাওয়া বা একা খেলা রাজবীর, জিতু কিংবা মনামির মতো প্রতিযোগীরা কবে নিজেদের যোগ্যতায় অধিনায়ক হতে পারবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে।





