রিয়েলিটি শোয়ের (Reality Show) ঘর যেন এখন এক চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপট, যেখানে রাজনীতির খেলা ক্রমশ জমে উঠেছে। সম্প্রতি ঘরে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা। রাজবীরকে ‘গু’ন্ডা’ বলে কটাক্ষ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে। অপমানের জেরে মেজাজ হারিয়ে ঘরের যাবতীয় জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করে রাজবীর। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সে ভরত কলের মতো প্রবীণ অভিনেতাকে অপমান করে তাঁর গায়ে হাত তোলে এবং দুর্নিবারকেও কটু কথায় আক্রমণ করে। রাজবীরের এই রুদ্ররূপ পুরো ঘরের পরিবেশকে থমথমে করে তোলে।
অন্যদিকে, খেলার অন্দরে ঘনীভূত হয় নতুন বিতর্ক। জনগণের ভোট চলাকালীন ঘটা ভোট চু’রির ঘটনায় বড় ধাক্কা খান প্রতিযোগীরা। ভোট চু’রির খেসারত হিসেবে ঘরের সদস্যদের হাতছাড়া করতে হয় বহুল প্রতীক্ষিত ‘লাক্সারি বাজেট’। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে। আর সেই চু’রির পেছনে কে ছিল, তা স্পষ্ট না হওয়ায় পুরো ঘর একবাক্যে রাজবীরকেই প্রধান অপরাধী হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করে। যদিও আসল সত্যটা কারোরই জানা সম্ভব হয়নি।
সারাদিন ধরে চলা নানা ঝুটঝামেলা, তর্ক-বিতর্ক, মতের অমিল আর কড়া হিসাব-নিকাশের পর রাতের দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি ঘুরে যায়। প্রতিযোগীদের কাটখোট্টা গেমপ্ল্যানের মাঝেই আসে এক আনন্দের উপলক্ষ। ঘরের জনপ্রিয় সদস্য দীপেন্দু দা’র জন্মদিন উপলক্ষে শোয়ের নির্মাতাদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় সারপ্রাইজ কেক। আর সেই কেক আসার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় পুরো ঘরের জমাট বাঁধা বিষাদের আবহাওয়া।
কেক কাটার পর যেন এক নিমেষে উবে যায় সমস্ত ক্ষোভ আর তিক্ততা। সবাই মিলে একসঙ্গে নাচ, গান, হাসি আর আনন্দে সেই বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা মানসিক চাপ ভুলে ঘরের প্রতিটি সদস্য যেভাবে দীপেন্দুর জন্মদিন উদযাপনে মেতে উঠেছিল, তা সত্যি নজরকাড়া ও মন ভালো করে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য তৈরি করে।
আরও পড়ুনঃ বিগ বসের ঘরে ‘রাজনীতি’! সৃজলার ওপর আ’ঘাত হানতেই ফুঁ’সে উঠলেন অনুষ্কা! প্রকাশ্যে গোপন খবর ফাঁ’সের হুম’কি! রাজবীরকে চরম হুঁ’শিয়ারি!
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় ছিল, ওই বিশেষ সময়টায় কেউ কোনো হিসাব-নিকাশ রাখেনি। কে কোন গ্রুপে রয়েছে, কার সঙ্গে কার সম্পর্কের সমীকরণ কেমন, কিংবা কে কাকে পছন্দ বা অপছন্দ করে এসব সমীকরণ যেন এক মুহূর্তের জন্য একদম ভেসে গিয়েছিল। সবাইকে একসঙ্গে এতটা আন্তরিকতার সঙ্গে আনন্দ করতে দেখে স্পষ্ট বোঝা গেল, গেম ও জটিল রাজনীতির বাইরেও এই প্রতিযোগীদের মনের ভেতর এখনও একটি সুন্দর মানবিক জায়গা জীবিত রয়েছে।





