তীর্থকে ভালবাসে রঞ্জা, ফুলশয্যার রাতেই পুতুল আর তীর্থকে আলাদা করে দিল সে!

ভালো মানুষগুলো এত সহজে সুখ শান্তি পায় না। আবারো প্রমাণ হলো সেটাই। দর্শকরা হয়তো ভেবেছিলেন বিয়ের পর খুব সুখে শান্তিতে থাকবে জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক কার কাছে কই মনের কথার (Kar kache koi moner kotha) অন্যতম প্রধান চরিত্র পুতুল। এই চরিত্রটিকে বরাবর দর্শকরা বেশ ভালোবেসে এসেছেন। আরো দুটো স্বাভাবিক মানুষের মতন আচার-আচরণে অক্ষম এই মেয়েটি মনের দিক থেকে একেবারে খাঁটি সোনা। আর সেটা বুঝেই তাকে বিয়ে করে তীর্থঙ্কর।

ধারাবাহিকের বর্তমান গল্প অনুযায়ী, শত কষ্ট সত্ত্বেও পুতুলদির জীবনের শুভারম্ভে সাক্ষী থাকতে তাদের বৌভাতে যায় বিপাশা। সবাই যখন পুতুলকে নিয়ে গল্প করছে, কথা বলছে ঠিক সেই সময় তীর্থর বৌদি এসে সবাইকে অত্যন্ত বাজেভাবে অপমান করে। এরপর সেখানে চলে আসে তীর্থ। সবটা দেখে সেও বেশ লজ্জিত হয়। তীর্থর বৌদি কিছুতেই পুতুল আর তীর্থ সম্পর্কটা মেনে নিতে পারছে না এটা বুঝে যায় শিমুল এবং সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকেই।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, পুতুলের কাকিমা তীর্থর সামনেই তার বৌদিকে অনেকগুলো কথা বলে দেয়। সে বলে, “বিয়ের বাড়িতে মানুষ শুধু খেতে আসে না, তার কাছের মানুষগুলোর সাথে সময় কাটাতে আসে আর দুটো ভালো কথা বলতে আসে। কিন্তু তুমি সেসব কিছুই বোঝনা। তখন থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাইকে অপমান করে চলেছ। যদি ভালোবাসা না দিতে পারো তাহলে ভালোবাসা পাবেও না।” এসব কথা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনতে থাকে তীর্থ আর সেটা দেখে তার বৌদি বলে, পুতুলের পরিবার নাকি ইচ্ছে করে তীর্থর সামনে তাকে অপমান করছে। কিন্তু তীর্থ আসল কারণটা বুঝতে পেরে বিনীতভাবে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। এরপর পুতুল বলে তার খিদে পেয়েছে। শিমুল তখন পুতুলকে খাওয়ানোর জন্য তাকে সেখান থেকে নিয়ে চলে যায়।

সবাই সেখান থেকে যেতেই তীর্থ তার বৌদিকে বলে, “ওদেরকে কেন এভাবে অপমান করছ তুমি? তুমি যদি দাদার সঙ্গে সুখে শান্তিতে সংসার করো তাহলে আমিও একটু শান্তিতে থাকতে পারি। আমিও পুতুলকে ভালোবেসে এই বাড়িতে এনেছি আর ওকে আমার কাছে রাখতে চাই। শুরু থেকে তুমি ওর সাথে আর ওর পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে চলেছ।” রঞ্জা বলে, “তোমাকে আমি ছাড়তে পারছি না তীর্থ। তুমি আমাকে ভালোবাসোনি? আর আজ তুমি ওই মেয়েটার সঙ্গে সুখে থাকতে চাইছো? আমার কি হবে? আমি পারছি না মেনে নিতে।” তীর্থ তখন বলে, শুধুমাত্র বন্ধু হিসেবে ভালোবেসেছিল তার বউদিকে। তার মধ্যে কোন নোংরা চাহিদা ছিল না। আর পুতুলের সব জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবে। তার বৌদি যদি চায় তীর্থ এই বাড়িতে থাকুক তাহলে এসব যেন দ্বিতীয়বার না করে। তীর্থর এসব কথায় খুব কষ্ট পায় রঞ্জা।

আরো পড়ুন: অর্জুন দীপার নতুন জীবনে এলো অনেক বড় চমক! অনুরাগের ছোঁয়ায় ভালোবাসার দোল

এরপর সব আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ি চলে যায়। ঘরে ঢুকে তীর্থ পুতুলকে জিজ্ঞাসা করে তার কি খুব ঘুম পেয়েছে? পুতুল বলে হ্যাঁ তা তো পেয়েছে তার পাশাপাশি তার মায়ের জন্যও খুব মন খারাপ করছে। এতদিন মাকে জড়িয়ে ঘুমোতো সে। এরপর সে তার স্যারকে বলে, “আমি কি তোমায় জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়বো স্যার?” তীর্থ বলে, “অবশ্যই ঘুমোবে।” ঠিক তখনই দরজায় টোকা দেয় রঞ্জা। মাথা ব্যাথার ওষুধ নেওয়ার বাহানায় ঘরে ঢুকে পড়ে সে। এরপর তীর্থ তাকে যেতে বললেও সে যেতে চায় না উল্টে বিছানায় এসে বসে পড়ে। বোঝাই যাচ্ছে পুতুল আর তীর্থকে সুখে শান্তিতে সংসার করতে দেবে না রঞ্জা।