‘একে অন্যের কাছে পুরনো প্রেম লুকোইনি, কারণ…’ সম্পর্কে কোনও লুকোচুরি নয়! পুরনো সম্পর্ক থেকে ব্যক্তিগত জীবন, অকপটে কুশল চক্রবর্তী!

টেলিভিশন ও বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ কুশল চক্রবর্তী (Kushal Chakraborty) এবং সঞ্চারী সেন (Sanchari Sen)। নিজেদের অভিনয়শৈলী এবং নিখুঁত চরিত্র ফুটো তোলার জন্য দর্শক মহলে তাঁরা বেশ সমাদৃত। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন এবং একের পর এক সফল কাজের মাধ্যমে তাঁরা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। রূপোলি পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তাঁদের রসায়ন ও জীবনের প্রতি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ভক্তদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজেদের কাজের জগতের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তাভাবনা ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিলেন এই দম্পতি। সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁদের সম্পর্কের পুরোনো কথা এবং স্বচ্ছতা। সঞ্চারী জানান, একে অপরের সঙ্গে জীবন শুরু করার সময় তাঁরা অতীতের কোনো সম্পর্ক বা প্রেম গোপন রাখেননি। অতীতের ঘটনা নিয়ে লুকিয়ে না রেখে খোলামেলা আলোচনা করাই তাঁদের সম্পর্কের ভিতকে আরও মজবুত করেছে। সঞ্চারীর মতে, যেকোনো সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস এবং স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁদের পড়াশোনা ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের বিষয়টিও এই আড্ডায় উঠে আসে। সঞ্চারী জানান যে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শেষ করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং পরে এলএলএম সম্পন্ন করেছিলেন। ওদিকে কুশলেরও রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড। পেশাগতভাবে আইন চর্চার জায়গা থেকে অভিনয় জগতে আসা এবং ভিন্ন শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড সত্ত্বেও তাঁদের জীবনযাত্রার মানসিক মিল সম্পর্কের রসায়নকে আরও সহজ করে তুলেছে।

ব্যস্ততা ও অনিশ্চয়তায় ভরা বিনোদন জগতে মানসিক শান্তির গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেছেন তাঁরা। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও ওঠাপড়ার মধ্যে কীভাবে আধ্যাত্মিকতা বা ‘স্পিরিচুয়ালিটি’ মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, সে কথা জানান সঞ্চারী। কুশলের জীবনের প্রতি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক পরিপক্কতা তাঁদের সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনে এক গভীর স্থায়িত্ব এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সবশেষে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বাধীন স্থান দেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেছেন এই জুটি। নিজেদের ভালোলাগা-ভালোবাসা, সমাজমাধ্যমে উপস্থিতি এবং দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাস নিয়ে পরস্পরের মতামতকে সম্মান জানানোই যে সুখী দম্পতির আসল চাবিকাঠি, সে কথাই ফুটে উঠেছে তাঁদের কথায়। অহেতুক মানসিক চাপ না নিয়ে কীভাবে আনন্দে জীবন কাটানো যায়, সেই সহজ বার্তাই এই আড্ডার মাধ্যমে অনুরাগী ও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কুশল ও সঞ্চারী।