বলিউডের এক জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা বহু সুপারহিট ছবিতে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়েছেন। বিশেষ করে মাধুরী দীক্ষিতের পর্দার একাধিক জনপ্রিয় গানে তাঁর কণ্ঠ আজও শ্রোতাদের মনে একইভাবে জায়গা করে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বলিউডে সফলভাবে কাজ করলেও, জীবনের এক কঠিন সময় তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য এক পথে হাঁটার অনুপ্রেরণা দেয়।
১৯৮৩ সালে নিউমোনিয়ায় নিজের এক সন্তানের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ভেঙে দেয়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে যান। সেখানেই মা কালীর কাছে প্রার্থনা করার পর তাঁর জীবনের ভাবনা ও লক্ষ্য ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন এই গায়িকা। তিনি জানান, তখন বলিউডে তাঁর ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে এবং একের পর এক ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ আসছিল। দক্ষিণেশ্বরে যাওয়ার পর তাঁকে ভক্তিমূলক গান গাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সেই ধরনের গান সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন।
সেই সময় মা কালীর কাছে তিনি বিশেষ একটি প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, প্রথমে যেন তিনি বলিউডে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারেন, তারপর তিনি ভক্তিমূলক সংগীতের পথেই নিজেকে নিবেদন করবেন। একই সঙ্গে তিনি এটাও প্রার্থনা করেন, তাঁর গাওয়া ভজন যেন দেশের বিভিন্ন মন্দিরে বাজে। পরে টি সিরিজের সঙ্গে কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁর সেই ইচ্ছা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমায় কেউ পছন্দ করুক আমি সেটা চাই না, আর আমি কাউকে…’ বন্ধুত্ব নিয়ে স্পষ্ট হানি বাফনা! জোর করে সম্পর্ক গড়তে চান না অভিনেতা! কেন সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন তিনি?

শেষ পর্যন্ত সেই শিল্পী আর কেউ নন, অনুরাধা পড়োয়াল। ভক্তিমূলক গানের জগতে তিনি এক অনন্য পরিচিতি গড়ে তোলেন এবং ‘ভজন কুইন’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। আজও বিভিন্ন মন্দির, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পুজো পার্বণে তাঁর গাওয়া ভজন সমান জনপ্রিয়। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে করা সেই প্রার্থনাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় মোড় বলে মনে করেন।





