লতা মঙ্গেশকর—যাঁর নাম শুনলেই ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ঢেউ ওঠে। যুগের পর যুগ ধরে যাঁর গলায় ঝরেছে অমৃতসুর, যাঁর গান শোনার অভ্যেস এখনও কোটি মানুষের জীবনের অংশ। তবে জনপ্রিয়তার চূড়ায় পৌঁছেও তাঁকে ঘিরে এক বিতর্ক বারবার উঠে এসেছে—নতুন শিল্পীদের জায়গা নাকি তিনি দিতে চাইতেন না!
শুধু লতা নন, একই অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বোন আশা ভোঁসলের বিরুদ্ধেও। অনেকেই মনে করেন, এই দুই কিংবদন্তির জন্যই নতুন প্রতিভাদের বলিউডে জায়গা করে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠত।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন খ্যাতনামা গায়িকা অনুরাধা পড়োয়াল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এই অভিযোগে তিনি একেবারেই বিশ্বাস করেন না।
অনুরাধা জানান, তাঁর সঙ্গীতজীবনের শুরুতেই তাঁকে সুযোগ দিয়েছিলেন শচীন দেববর্মণ। ‘অভিমান’ ছবির একটি ছোট শ্লোক গাওয়ার সুযোগ আসে তাঁর কাছে। লতা মঙ্গেশকরের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনই হয়নি, কারণ অনুরাধার গলা শুনেই পছন্দ হয়ে যায় পরিচালকের। আর সেখান থেকেই শুরু তাঁর সঙ্গীত সফর।
লতাজির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অনুরাধা আরও বলেন,
“লতাজি আমার কাছে গুরুতুল্য। ওঁর গলায় ভগবদগীতা শুনেই আমি গান শেখা শুরু করেছিলাম। যাঁরা বলেন তিনি অন্যদের জায়গা দিতেন না, তাঁদের বলব—আগে লতাজির মতো গেয়ে দেখান! তাঁর মতো কণ্ঠের জাদু কয়জন আনতে পারেন?”
আরও পড়ুনঃ ড্যান্স বাংলা ড্যান্স থেকে চোখের বালি… ত্রিপুরার মেয়ে সুদীপ্তা রায় কীভাবে হয়ে উঠলেন বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ?
তিনি আরও যোগ করেন,
“এই দুই বোন—লতা ও আশা—এত দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থেকেছেন, সেটা মোটেই সহজ নয়। তাঁদের নিয়ে যা খুশি বলা যায় না। আশাজিও আজও প্রতিদিন রেওয়াজ করেন। এটাই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত।”
সরাসরি না বললেও অনুরাধা বুঝিয়ে দিলেন—একজন শিল্পীর দীর্ঘ সাফল্যের পিছনে যে অসাধারণ সাধনা আর নিষ্ঠা থাকে, সেটার কদর না করে কেবল গুঞ্জনের উপর ভর করে সমালোচনা করাটা ঠিক নয়।





