প্লেব্যাক গানের দুনিয়া থেকে অরিজিৎ সিংয়ের সরে দাঁড়ানোর খবরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা সঙ্গীত মহল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড গানের আবেগ, প্রেম, বেদনা ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল তাঁর কণ্ঠ। একটি গোটা প্রজন্ম হিন্দি ছবির গান মানেই অরিজিতের গলা শুনে বড় হয়েছে। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত অধ্যায় নয়, বরং বলিউড সঙ্গীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন অনেকে। লক্ষ লক্ষ শ্রোতার কাছে এই খবর নিঃসন্দেহে হৃদয়বিদারক।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের গুঞ্জন বলছে, সলমন খানের আসন্ন ছবি ব্যাটল অব গালওয়ান এর গান মাতৃভূমি হতে পারে অরিজিতের শেষ বলিউড প্লেব্যাক গান। এই গানটির কথা লিখেছেন সমীর অঞ্জন এবং সুর করেছেন হিমেশ রেশমিয়া। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ সিং ও শ্রেয়া ঘোষাল, ভারতীয় সঙ্গীত জগতের দুই জনপ্রিয় শিল্পী। গানটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হিমেশ জানান, সেনাবাহিনীর ছন্দ ও তীব্র আবেগ থেকেই এই সুরের জন্ম। তাঁর মতে, অরিজিত ও শ্রেয়ার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার সঙ্গে সলমন খানের ছবিতে গান মুক্তি পাওয়া পুরো বিষয়টিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে অরিজিৎ জানান, প্লেব্যাক গান থেকে সরে গেলেও সঙ্গীত থেকে তিনি বিদায় নিচ্ছেন না। বরং নিজেকে আরও শেখার সুযোগ দিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে সঙ্গীত সৃষ্টি এবং নতুন ভাবনায় মন দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগে থেকে যে পেশাগত প্রতিশ্রুতিগুলি রয়েছে, সেগুলি তিনি অবশ্যই পূরণ করবেন। সেই কারণে চলতি বছরে তাঁর গাওয়া কিছু নতুন গান এখনও শ্রোতারা পেতে পারেন বলেই আশা।
এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন অরিজিৎ। তিনি জানান, এটি কোনও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয় বা কোনও একটি ঘটনার ফলও নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। নিজের সৃষ্টিশীল অস্থিরতার কথাও স্বীকার করেছেন গায়ক। তাঁর কথায়, তিনি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং সেই কারণেই গান গাওয়ার সময় বারবার নতুনভাবে ভাবতে চান। লাইভ পারফরম্যান্সে গানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করাও তাঁর স্বভাব। তবে সবশেষে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বাঁচতে হলে অন্য ধরনের সঙ্গীত খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ অন্ধকার জয় করে আলোর পথে ভাইরাল হওয়ার গল্প! শিল্পচর্চা থেকে সমাজসেবা! তবলার তালে শৈশবকে ফিরিয়ে আনছেন রাতুল বসাক!
অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে প্লেব্যাক দুনিয়ায় কী প্রভাব পড়বে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট, একটি অধ্যায়ের ইতি টানার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন এক সঙ্গীতযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এক সময় সলমন খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। দীর্ঘদিন সেই দূরত্ব বজায় থাকলেও সময়ের সঙ্গে সব ভুল বোঝাবুঝি কাটে। আশ্চর্যের বিষয়, অরিজিতের প্লেব্যাক কেরিয়ারের সম্ভাব্য শেষ গানটিও হতে চলেছে সলমন খানেরই ছবিতে, যা তাঁর সঙ্গীতজীবনের একটি আবেগঘন পরিসমাপ্তি বলেই মনে করছেন অনেকে।





