সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ কানে ভেসে আসে পুরনো দিনের কোনো কবিতা, যা ছন্দের বদলে শোনা যায় গানের সুরে। স্ক্রিনের ওপারে এক হাসিখুশি যুবক, যার চোখে হয়তো আলো নেই, কিন্তু কণ্ঠে আছে জাদু। তিনি রাতুল বসাক—এক জন বিশেষভাবে সক্ষম (দৃষ্টিহীন) ব্যক্তি, যিনি বর্তমানে বাংলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
দৃষ্টিহীনতা যে কারো প্রতিভার পথে বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন রাতুল বসাক। বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তাঁর নিজস্ব পেজ “রাতুলের রূপকথা”-তে তিনি শৈশবের জনপ্রিয় সব ছড়া ও কবিতা তবলার তালে তালে গানের সুরে পরিবেশন করেন। সম্প্রতি রাতুলের গাওয়া ‘হাট্টিমাটিম টিম’ ছড়াটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নামী-দামী অভিনেতা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও রাতুলের তবলার তালের সঙ্গে রিল বানাচ্ছেন। শুধু এই একটি ছড়া নয়, ‘বাবুরাম সাপুরে’ থেকে শুরু করে ‘টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার’ সবই এখন রাতুলের কণ্ঠে নেট দুনিয়ায় সুপারহিট।
রাতুল বসাকের নিজস্ব ইন্সটাগ্রাম পেজ এবং ফেসবুক প্রোফাইল এখন হাজার হাজার মানুষের প্রিয়। তার বিশেষত্ব হলো, তিনি আমাদের ছোটবেলায় পড়া কবিতাগুলোকে নিজস্ব ঢঙে সুর দিয়ে গেয়ে শোনান। সহজ-সরল উপস্থাপনা আর দরদী কণ্ঠ দিয়ে তিনি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তার ভিডিওর নিচে মন্তব্য করলেই বোঝা যায়, মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসেন।
রাতুল কেবল একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরই নন, তার হৃদয়ে রয়েছে মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছে। তিনি সক্রিয়ভাবে সমাজসেবার সাথে যুক্ত। রাতুল নিজে দৃষ্টিহীন হওয়া সত্ত্বেও অন্য বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের পড়াশোনা এবং বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি মনে করেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো অভিশাপ নয়। সঠিক সুযোগ পেলে এই শিশুরাও সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে পারে এই বার্তাই তিনি প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছেন। রাতুল ছোটবেলা থেকেই জন্মান্ধ। সমাজের নানান বাঁকা কথা আর বিদ্রূপ সহ্য করেই তিনি বড় হয়েছেন। তবে তাঁর জেদ ছিল অদম্য। তিনি ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড’ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করার পাশাপাশি তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অন্যদের দিকেও।
আরও পড়ুনঃ কেরিয়ারের মধ্যগগনে অরিজিৎ সিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত! অবসরের ঘোষণায় চমকে গিয়েছে গোটা দেশে! কত অংকের সম্পত্তি নিয়ে এই পথ ছাড়লেন সুরের রাজা?
সম্প্রতি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে রাতুল একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি তাঁর জীবনের চড়াই-উতরাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাত পাওয়া জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা সহজ-সরল ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে আরও ভালো কাজ করার শক্তি জোগায়। রাতুল বসাক কেবল একজন ভাইরাল শিল্পী নন, তিনি লড়াইয়ের অন্য নাম। যেখানে মানুষ সামান্য প্রতিবন্ধকতায় ভেঙে পড়ে, সেখানে রাতুল দেখিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে হাসি মুখে পৃথিবীকে আনন্দ দেওয়া যায়। ট্রোলিং বা নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে তিনি তাঁর তবলা আর গান নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এক সুন্দর আগামীর পথে।





