তিনি থামতে জানেন, আবার প্রয়োজনে সময়ের আগেই জায়গা ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করেন না। সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা গেল অরিজিৎ সিংয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণায়। মঙ্গলবার রাতে প্লেব্যাক গায়কের ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে গোটা দেশকে কার্যত চমকে দিলেন তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে কেরিয়ারের মধ্যগগনে এসে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। অনুরাগীদের পাশাপাশি সমালোচকরাও যেন এই খবরে হতবাক। অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এনেছে সাফল্য আর আত্মতৃপ্তির ভারসাম্য।
নিজের শর্তে জীবনযাপন করতেই বরাবর পছন্দ করেন অরিজিৎ। মুম্বইয়ের ঝলমলে দুনিয়া তাঁকে কখনও টানেনি। আজও তিনি থাকতে ভালোবাসেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে, নিজের শিকড়ের কাছেই। তবে আবেগের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথাও ভেবেছেন তিনি। কেরিয়ারের মধ্যগগনে বিরতি নেওয়ার আগে আর্থিক ভিত তিনি অনেক আগেই মজবুত করে ফেলেছেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি হিসেব অনুযায়ী অরিজিৎ সিংয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪১৪ কোটি টাকা, যা যে কাউকে তাক লাগিয়ে দেবে।
বর্তমানে একটি প্লেব্যাক গানের জন্য অরিজিৎ নেন প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। লাইভ শো তাঁর আয়ের অন্যতম বড় উৎস। দেশে বা বিদেশে চার ঘণ্টার একটি কনসার্টের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ১.৫ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকার মধ্যে। জিয়াগঞ্জে থাকলেও মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে তাঁর চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। সঙ্গে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ এবং রেঞ্জ রোভারের মতো দামী গাড়ি।
অরিজিতের আয়ের আরেকটি বড় উৎস তাঁর নিজস্ব মিউজিক লেবেল ওরিয়ন মিউজিক। এখান থেকে পাওয়া রয়্যালটি তাঁর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এত বিত্ত বৈভবের মাঝেও নিজের শিকড় ভুলে যাননি তিনি। জিয়াগঞ্জে তাঁর চালানো হেঁশেল নামের সস্তার খাবারের হোটেলে আজও মাত্র ৪০ টাকায় পেটভরা খাবার পাওয়া যায়। এই সাধারণ জীবনবোধই অরিজিতকে অন্য তারকাদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় অরিজিৎ জানান, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে তিনি আর নতুন কাজ নেবেন না। তবে গান ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি। বাণিজ্যিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে এবার স্বাধীন সঙ্গীত নিয়েই কাজ করতে চান। হাতে থাকা পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলি তিনি সম্পূর্ণ করবেন বলেও জানিয়েছেন। ফলে চলতি বছরেও ভক্তরা নতুন অরিজিৎ সিংয়ের গান উপহার পেতে চলেছেন।





