রুপোলি পর্দা থেকে লক্ষ যোজন দূরে “টাইম টু ডিস্কো”র বসুন্ধরা! হঠাৎ করে কোথায় হারিয়ে গেলেন গায়িকা তথা নায়িকা এবং বাঙালির নস্টালজিয়া?

বলিউডের এক সময়ের অত্যন্ত পরিচিত মুখ বসুন্ধরা দাস। আজ তিনি বেশি পরিচিত একজন গায়িকা হিসেবে হলেও তাঁর কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল অভিনয়ের হাত ধরেই। মনসুন ওয়েডিং কিংবা হে রামের মতো ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। ছোট থেকেই গান তাঁর রক্তে মিশে ছিল, কিন্তু অভিনয়ের পাশাপাশি সেই প্রতিভার পূর্ণ স্বীকৃতি পেতে বলিউডকে খানিকটা সময় নিতে হয়েছিল। ধীরে ধীরে বসুন্ধরা নিজেকে প্রমাণ করেন একজন দক্ষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে এবং একের পর এক হিট গান উপহার দেন শ্রোতাদের।

ছোট করে কাটা চুল দুধসাদা গায়ের রং বাদামি চোখ আর খানিকটা খসখসে স্বর এই বৈশিষ্ট্যেই একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন বসুন্ধরা। কাল হো না হো ছবির ইটস দ্য টাইম টু ডিস্কো আজও সমান জনপ্রিয় নতুন প্রজন্মের কাছেও। সালাম নমস্তে ম্যায় হু না কিংবা নায়ক এর মতো ছবিতে গাওয়া তাঁর গান তখনকার সময়ের চার্টবাস্টার ছিল। গানের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের পরিচিত কণ্ঠ।

কিন্তু জনপ্রিয়তার শিখরে থাকার মাঝেই হঠাৎ করেই যেন বলিউড থেকে হারিয়ে যান বসুন্ধরা। দীর্ঘ সময় তাঁকে আর বড় পর্দা বা প্লেব্যাকের জগতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফের চর্চায় উঠে আসেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে একটি হস্তশিল্প মেলায় দেখা যায় তাঁকে। সাধারণ সাজে স্বাভাবিক উপস্থিতিতে ধরা দেন বসুন্ধরা যা অনেকের কাছেই ছিল চমকের।

২০১২ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী রবার্টো নারিনকে বিয়ে করার পর থেকেই বেঙ্গালুরুতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বসুন্ধরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনধারা বদলেছে। এখন তিনি হাতেগোনা কিছু অনুষ্ঠানেই গান করেন। ওজন কিছুটা বাড়লেও তাঁর কণ্ঠের আবেদন যে এখনও অটুট তা মানছেন অনেকে। ক্যামেরার সামনে বহুদিন পর তাঁকে দেখে আবেগে ভেসেছেন ভক্তরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই অনেকে মন্তব্য করেছেন বসুন্ধরার কণ্ঠ আবারও নিয়মিত শুনতে চান। কেউ কেউ তাঁকে মুম্বই ফিরে আসার পরামর্শও দিয়েছেন। ভক্তদের একটাই আর্জি আবার যেন পুরনো ছন্দে বলিউড মাতান বসুন্ধরা। সময়ের আড়ালে চলে গেলেও তাঁর গান যে এখনও মানুষের মনে জায়গা করে আছে তা এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে।