‘দয়া করে একটা কাজ দিন…’- যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মিলছেনা কাজ! একটা কাজের আশায় জনপ্রিয় অভিনেতা ববি দেওল!

প্রায় তিন দশক ধরে বলিউডের পর্দায় নিজের ছাপ রেখেছেন ববি দেওল। তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ‘বরসাত’ ছবির মাধ্যমে, যা বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য লাভ করে। এরপর ‘সোলজার’, ‘বাদল’, ‘বিচ্ছু’ ও ‘অজনবী’সহ একের পর এক হিট ছবি দিয়ে বলিউডকে উপহার দেন তিনি। তবে সকলের মনে রাখার মতো এই ঊর্ধ্বমুখী কেরিয়ার গ্রাফের সঙ্গে একটি কঠিন সময়ও এসেছিল, যা ছিল ববির জীবনের এক চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়।

২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ববির কেরিয়ার ধাক্কা খায়। একের পর এক সিনেমা প্রত্যাশা মতো সফল হয় না এবং কাজের পরিমাণও কমতে থাকে। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থাকা, নতুন প্রকল্পের খোঁজে না থাকা—এই সময়গুলোতে ববির জীবনে হতাশার ছায়া নেমে আসে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এমন সময়ে তাঁর ছেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি করেছিল, যা তাঁকে আবার নতুন উদ্দীপনা দিয়েছিল।

এই উদ্দীপনার সঙ্গে ববি নিজেই উদ্যোগ নেন। তিনি পরিচালক ও প্রযোজকদের অফিসে দরজায় দরজায় ঘুরে বলতেন, “আমি ববি দেওল। দয়া করে আমাকে একটি কাজ দিন।” তিনি মনে করতেন, এতে কোনও লজ্জার কিছু নেই। বরং, এই প্রচেষ্টা তাঁকে কাজের জগতে আবার ফিরিয়ে আনে এবং প্রমাণ করে যে নিজের যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার ওপর বিশ্বাস রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ববি বলেন, “জীবনের সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যখন হাতে কিছু থাকে না, তখনই মানুষ বুঝতে পারে যে নিজের মধ্যে এখনও সেই আগের শক্তি ও প্রতিভা আছে। ভিতর থেকে যেন একটি আওয়াজ আসে, যা বলছে—তোমার মধ্যে এখনও সেই জিনিসটি রয়েছে, যা তোমাকে আবার এগিয়ে নিয়ে যাবে।” এই আত্মবিশ্বাসই ববিকে ফের পর্দায় আনার মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।

এর পরের অধ্যায়টি ববির জন্য ছিল নতুন সম্ভাবনার। প্রকাশ ঝার ‘আশ্রম’ সিরিজের মাধ্যমে তিনি আবার নজরে আসেন। এরপর ২০২৩ সালে ‘অ্যানিম্যাল’-এ খলনায়কের ভূমিকায় এবং ২০২৫ সালে ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড় করায়। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সাফল্যের সঙ্গে ব্যর্থতাও আসে, তবে দৃঢ় চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো সময় আবার আলো ছড়ানো সম্ভব।