বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন মানেই এক কিংবদন্তি নাম। তাঁর কেরিয়ার, ব্যক্তিত্ব আর জীবনযাত্রা আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁর বাসস্থান নিয়েও বরাবরই দর্শকদের আগ্রহ। একসময় তিনি থাকতেন ‘প্রতীক্ষা’ নামে এক বাড়িতে, যা ছিল বচ্চন পরিবারের প্রথম আশ্রয়স্থল। সেই বাড়ি আজও তাঁর অমূল্য সম্পদ, যদিও এখন আর সেখানে থাকেন না তিনি। কারণ, তার থেকেও বিলাসবহুল এক উপহার তাঁর জীবনে এসেছে—যার নাম ‘জলসা’।
জলসা, মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় অবস্থিত সেই বিখ্যাত বাংলো, যেখানে এখন অমিতাভ বচ্চন পরিবার-সহ বাস করেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই বাংলোটি তিনি নিজের টাকায় কেনেননি। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন—এটি ছিল একটি উপহার। আর সেই উপহার দিয়েছিলেন ‘শোলে’ খ্যাত পরিচালক রমেশ সিপ্পি। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সত্তে পে সত্তা’ ছবির বিশাল সাফল্যের পর, কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই বাংলো অমিতাভকে উপহার দেন সিপ্পি। ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করেছিল, এবং তার নায়ক হিসেবে অমিতাভ ছিলেন অনন্য। তাই এই উপহার ছিল বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার প্রতীক।
সময় গড়িয়েছে, কিন্তু জলসার ঐশ্বর্য আরও বেড়েছে। এখন এই বাংলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। দুই তলায় বিস্তৃত এই বাড়ির প্রতিটি কোণ সাজানো অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের নিজস্ব রুচিতে। বসার ঘর থেকে শুরু করে পড়ার ঘর, লাইব্রেরি, এমনকি বারান্দাও ভরপুর শিল্প আর স্মৃতিতে। জলসার অন্দরমহলের কিছু ছবি মাঝে মাঝেই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে বচ্চন পরিবারের পোস্টে। অমিতাভের ব্লগ বা ইনস্টাগ্রামে দেখা যায় তাঁর বাড়ির নানান মুহূর্ত—যেখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন স্পষ্ট।
এই বাংলোতে এখন থাকেন অমিতাভ, জয়া, ছেলে অভিষেক, আর নাতি-নাতনিরা। মেয়ের জন্যও রয়েছে একটি আলাদা ঘর। তবে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের থাকা নিয়ে নানা গুঞ্জন আছে, যদিও সেগুলোর সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়। তবু জলসা বচ্চন পরিবারের মিলনকেন্দ্র, যেখানে উৎসব হোক বা পারিবারিক অনুষ্ঠান—সবই পালিত হয় জমকালোভাবে।
আরও পড়ুনঃ বাবা ছেলের মধ্যে দূরত্ব, অভিমান! কিসের দ্বন্দ্ব ছিল তাদের মাঝে? ছেলে প্রসেনজিতের ভালবাসায় ভালো আছেন তো বিশ্বজিৎ?
অমিতাভ একবার নিজের ব্লগে লিখেছিলেন, “ভক্তদের পাঠানো ছোট্ট চিঠিটাও আমি যত্ন করে রেখে দিই।” এত বড় তারকা হয়েও মানুষের অনুভূতির প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা তাঁকে আরও বড় করে তোলে। তবে জীবনে পাওয়া অসংখ্য উপহারের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় যে উপহার, তা হল এই বাংলো—‘জলসা’। একাধিক সাক্ষাৎকারে বিগ বি নিজেই স্বীকার করেছেন, “এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ উপহার।” রমেশ সিপ্পির দেওয়া এই বাংলো শুধু একটি বাড়ি নয়, এটি এক বন্ধুত্বের স্মারক, যা আজও অমিতাভের সাফল্যের গল্পের সঙ্গে সমানভাবে যুক্ত।





