পকেটে ১৭ টাকা নিয়েই পা রেখেছিলেন মুম্বাইতে! প্রথম ছবিতে পারিশ্রমিক মাত্র ৫১ টাকা, আজ ৪৫০ কোটির সাম্রাজ্য গড়েছেন ধর্মেন্দ্র! জানেন ধর্মেন্দ্রর স্ট্রাগেলর কাহিনী?

বাবা ছিলেন স্কুলের শিক্ষক। ছোট্ট গ্রাম লুধিয়ানার সাহনেওয়ালেই কেটেছে শৈশব। কিন্তু পড়াশোনায় মন ছিল না। সারাদিন চোখ থাকত সিনেমার পর্দায়। বিশেষ করে দিলীপ কুমারের ভক্ত ছিলেন তিনি। মনে মনে একটাই স্বপ্ন—একদিন ঠিক দিলীপ কুমারের মতো নায়ক হবেন। তবে বাবার একেবারেই পছন্দ ছিল না এই স্বপ্ন। পরিবারের ভরসা ছিলেন মা। তিনিই ছেলের মনে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই ধর্মেন্দ্র যোগ দেন ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায়। আর আশ্চর্যের বিষয়, সেখানেই জয়ী হন তিনি।

মায়ের অনুমতি মিলতেই সাহস করে মুম্বই পা রাখেন ধর্মেন্দ্র। প্রথম ছবির নাম ‘দিল ভি তেরা, হম ভি তেরে’। সেখানেই প্রথমবার নায়ক হিসেবে সুযোগ পান তিনি। তবে সেই সময়কার পারিশ্রমিক শুনলে আজকের দিনে অবাক হতে হয়। মাত্র ৫১ টাকা। এক রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেই জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।

ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, প্রথম শুটিংয়ের সময় তিনজন প্রযোজক ছিলেন সেটে। তাঁদের আলাদা আলাদা কেবিন। তাঁকে বসানো হয় মাঝের কেবিনে। প্রতিটি প্রযোজকই একে একে এসে তাঁর পকেটে ১৭ টাকা করে গুঁজে দিয়েছিলেন। তিনজন মিলিয়ে মোট ৫১ টাকা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর নায়কের যাত্রা।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে বড় ব্যানারের ছবিতে কাজের সুযোগ আসতে থাকে। মারদাঙ্গা ইমেজ, চৌকশ অভিনয় আর রোমান্টিক হিরোর মায়া—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বলিউডের হি-ম্যান হয়ে ওঠেন ধর্মেন্দ্র। যে ছেলেটি একসময় হাতে মাত্র ৫১ টাকা নিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, আজ তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।

ধর্মেন্দ্রর মতোই তাঁর পরিবারও অভিনয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। দুই ছেলে সানি দেওল এবং ববি দেওল এখন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী নিজেও বলিউডের ড্রিম গার্ল। তাঁদের মেয়ে এষা দেওলও অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন। তবে সব কিছুর শুরু হয়েছিল সেদিনকার সেই মুহূর্তে—যখন তিন প্রযোজক মিলে পকেটে তুলে দিয়েছিলেন মাত্র ১৭ টাকা করে।