অমিতাভ বচ্চনের জীবনে এমন একটা দিন এসেছিল, যা এখনও শিহরিত করে দেয় ভক্তদের। বলিউড তখন তাঁর হাতের মুঠোয়। নাম, যশ, খ্যাতি—সবই চূড়ান্ত পর্যায়ে। ঠিক তখনই ঘটে যায় সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তে কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। ১৯৮২ সালের সেই দিনটিতে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন বিগ বি, আর হাসপাতালের করিডরে ভেঙে পড়েছিল বচ্চন পরিবার।
কুলি ছবির শুটিং চলাকালীন এক অ্যাকশন দৃশ্যে সহ-অভিনেতার সঙ্গে ঝাঁপাঝাঁপির সময় হঠাৎই গুরুতর আঘাত পান অমিতাভ। বুকে ও তলপেটে জোরে ধাক্কা লাগে। মুহূর্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই ঘটে সবচেয়ে ভয়ের ঘটনা। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—অমিতাভ আর নেই, তিনি ‘ক্লিনিক্যালি মৃত’। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি জয়া বচ্চন থেকে শুরু করে পরিবারের অন্য সদস্যরা।
তবে সেদিন ভাগ্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয় একটি ইঞ্জেকশন। আর সেখানেই ঘটে অলৌকিক মুহূর্ত। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর শরীরে নড়ে ওঠে প্রাণ। ধীরে ধীরে ফুসফুসে ফিরে আসে শ্বাস। চিকিৎসকেরাও অবাক হয়ে যান। যাঁরা মুহূর্তখানেক আগেই অমিতাভের মৃত্যু সংবাদ শুনেছিলেন, তাঁরাই এখন চোখের সামনে দেখছেন এক ‘অলৌকিক পুনর্জন্ম’।
অমিতাভকে ঘিরে তখন ভক্তদের আবেগ তুঙ্গে। হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে রক্ত দান করেছিলেন তাঁর জন্য। কেউ লিখেছিলেন প্রার্থনার চিঠি, কেউ আবার দিনের পর দিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছেন তাঁর সুস্থতার জন্য। এত ভালোবাসার জোরেই যেন নতুন জীবন ফিরে পান তিনি। পরে যখন তিনি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বেরিয়ে আসেন, ভক্তরা সেদিনটিকে ‘বিগ বি-র দ্বিতীয় জন্মদিন’ হিসেবে উদযাপন করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ “সকলকে একটা গুডনিউজ দিতে চাই…” দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর ফের সুখবর মানসীর, খুশির আবহে নায়িকার ভক্তরা!
আজ চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে সেই ঘটনার। তবুও ভক্তদের কাছে ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহ দিন রয়ে গেছে এক দুঃস্বপ্নের মতো। অমিতাভ আজও বলিউডের শাহেনশাহ। বয়স সত্ত্বেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থেকেও যতবার তিনি ফিরেছেন, ততবারই প্রমাণ করেছেন—ভালোবাসা আর ইচ্ছে থাকলে মৃত্যুকেও হার মানানো যায়।





