বিনোদন জগত এমনই একটা জগত যে দুনিয়ায় সব ধরনের মানুষেরাই প্রবেশ করতে চাই। লক্ষ্য স্থির থাকলে অনেকেই ছুঁতে পারে সাফল্যের আকাশ। এমনই এক সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছিল ৯০ এর দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা কিন্তু আজ তার নাম বলিউডের খাতায় নেই বললেই চলে। বিশেষত বলিউডের কাজ করার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যায় মুম্বাই শহরে। বিশেষত দক্ষিণের এমন অনেক অভিনেতা আছে যাঁরা তামিল, তেলেগু ছাড়াও বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যথেষ্ট জনপ্রিয়। কামাল হাসান, রজনীকান্তের পর মাধবণ, অজিত কুমার, বিজয়ের মতো আরও এক নায়ক ছিল যিনি এক সময় রাজত্ব করেছে সিনে জগতে, মির্জা আব্বাস আলি (Mirza Abbas Ali)।
অভিনেতা মির্জা আব্বাসের কপাল সাথ দেওয়াতে কেরিয়ার এক সময় চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জীবনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অন্য পেশাকে নির্বাচন করতে হয়। অভিনেতার জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গে। এরপর ১৯৯৪ সালে কলেজে পড়াকালীন মডেলিং শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম তামিল ছবি ‘কাধিল দেশম’এ অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই অভিনেতা ইন্ডাস্ট্রিতে ‘হার্টথ্রব’ নামেও পরিচিত ছিল।

এই সিনেমা করার পর তেলেগু ভাষায় একের পর এক কাজের সুযোগ পেতে থাকে এই অভিনেতা। মির্জা আব্বাসের সব সিনেমার মধ্যে জনপ্রিয় সিনেমা ‘প্রিয়া ও প্রিয়া’, ‘রাজা অউর রাজাহংস’। এরপর অভিনেতা ২০০০ সালের তামিল ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। সবকিছু ঠিকঠাক চলা সত্ত্বেও আচমকাই ২০০৬ সাল থেকে ধীরে ধীরে অভিনেতার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে বলিউডে কাজ করার জন্য তামিল ইন্ডাস্ট্রিও ছেড়েছিলেন অভিনেতা। তবে এও ঠিক দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতে জনপ্রিয়তার লাভ করলেও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে তুলতে পারেননি তিনি।
এমনকি অভিনেতার বলিউডের বেশ কিছু সিনেমা বক্স অফিসে ভালো ফলাফলও করেনি। প্রধান চরিত্রের অভিনয় করার স্থান ধরে রাখতে না পেরে অবশেষে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পর ২০১১ সালে অভিনেতার ক্যারিয়ারে বড় ব্রেক আসে। আব্বাস ভারতের সবকিছু ছেড়ে ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড চলে যান। জীবনের প্রায় সব কিছু হারিয়ে সেখানে ছোট একটা চাকরি করতে শুরু করে অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ আবারও নতুন রূপে ‘ছোটো বউ’! বহু বছর পর ফের পর্দায় ফিরছেন দেবিকা মুখোপাধ্যায়!
এরপর ২০২২ সালে অভিনেতার দেওয়ার একটি ইন্টারভিউতে বলেছেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য এক সময় তিনি বাড়ি তৈরির কাজ করেছিলেন। এমনকি মেকানিক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে বছরের পর বছর পেট্রোল পাম্পে কাজও করেছেন। বর্তমানে তিনি একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। শোনা যায় ২০২৩ সালে, আব্বাস ফিরে আসে নিজের মাতৃভূমি, ভারতে। এর মধ্যে তিনি মনে সাহস যুগিয়ে আবারও অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তে তিনি সপরিবারে থাকেন মুম্বাইয়ে।





