বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনকে ভালোবাসে গোটা দেশ, এমনকি বিদেশেও তাঁর ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে বাংলার সঙ্গে তাঁর একটা আলাদা সম্পর্ক রয়েছে—তিনি যে বাংলার জামাইবাবু! কিংবদন্তি লেখক তরুণ কুমার ভাদুড়ির মেয়ে জয়াকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন অমিতাভ। আর সেই সম্পর্কের কথা একসময় নিজের মুখে জানিয়েছিলেন জয়ার বাবা, যেখানে ফুটে উঠেছিল এক জামাই আর শ্বশুরের সুন্দর বন্ধন।
তরুণ কুমার ভাদুড়ি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ১৯৭২ সালের এক রাতে প্রথমবার তিনি অমিতাভের সঙ্গে দেখা করেন। জয়ার জুহু বিচের ফ্ল্যাটের বাইরে এক লম্বা, রোগা যুবক সিল্কের কুর্তা ও লুঙ্গি পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। “আমি কাছে যেতেই ও শ্রদ্ধাভরে পা ছুঁয়ে বলল, ‘আপনি সেই বইটার লেখক, তাই না?’— এই কয়েকটি শব্দেই যে নম্রতা আর শ্রদ্ধা ছিল, তা আমি সারাজীবন মনে রেখেছি,” বলেছিলেন তিনি।
কয়েক মাস পর, ১৯৭৩ সালের মে মাসে, একদিন ফোনে অমিতাভ বলেছিলেন, “বাবা, আমি অমিত…” প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি তরুণবাবু, কিন্তু তাঁর স্ত্রী হেসে বলেছিলেন, “আপনি বুঝতে পারছেন না? ওরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” পরদিনই তিনি ভোপাল থেকে মুম্বই পৌঁছে যান। ৩ জুন ১৯৭৩, মালাবার হিলের একটি ফ্ল্যাটে সম্পূর্ণ বাঙালি রীতিতে অমিতাভ ও জয়ার বিয়ে হয়। তরুণবাবু বলেছিলেন, “আমি নাস্তিক ছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রী চেয়েছিলেন বাঙালি প্রথায় বিয়ে হোক। পণ্ডিত প্রথমে আপত্তি জানালেও অমিত সব নিয়ম মেনে আন্তরিকভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে।”
জামাইয়ের প্রশংসা করে তরুণ কুমার ভাদুড়ি বলেছিলেন, “তিনি যেমন একজন বড় তারকা, তেমনই সাধারণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ। বয়সে বড় কাউকে দেখলেই পা ছুঁয়ে ‘স্যার’ বলেন।
সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, তিনি কখনও জয়ার পরিচয় নিজের নামের আড়ালে লুকিয়ে রাখেননি। যখন কেউ জিজ্ঞেস করেছিল কেন পোস্টারে ‘জয়া ভাদুড়ি’ লেখা থাকে, অমিতাভ হেসে বলেছিলেন, ‘কারণ ওর পরিচয় এই নামেই।’”
বছরের পর বছর ধরে বচ্চন ও ভাদুড়ি পরিবারের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ১৯৮৮ সালে তরুণ ভাদুড়ি যখন এইমস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন প্রায় প্রতিদিনই অমিতাভ ও তাঁর মা তেজী বচ্চন দেখা করতে যেতেন। “তাদের সেই উষ্ণতা কখনও কমেনি,” বলেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শাহরুখ খানের ৬০-এ পদার্পণ! ‘কিং-এর থেকে সাবধান’- সাবধানবাণী জুহির! কিসের সতর্কবার্তা দিলেন অভিনেত্রী?
জীবনের শেষ পর্যন্ত জামাইকে নিয়ে গর্ববোধ করেছিলেন তরুণবাবু। “অনেকে বলেছিল, অমিত খ্যাতির জন্য জয়াকে বিয়ে করেছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওর আত্মসম্মান, সরলতা, আর ভালোবাসা—সবই নিখাদ,” বলেছিলেন তিনি।





