শাহরুখ খান—যার নাম শুনলেই হৃদয়ে ধপাধপানি বাড়ে, চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাত দু’দিকে ছড়িয়ে দাঁড়ানো এক রোম্যান্টিক নায়ক। ‘প্যায়ার দোস্তি হ্যায়’ থেকে ‘মাই নেম ইজ খান অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ টেররিস্ট’—ভারতীয় দর্শকদের প্রেম এবং বিশ্বাসের মানে শিখিয়েছেন যিনি, সেই বলিউডের স্বপ্নস্রষ্টা আজ পা দিলেন জীবনের ষাটের ঘরে। তবু তার তারুণ্য, তার ম্যাজিক—বয়স কোনওদিনই ছুঁতে পারে না।
হিন্দি সিনেমার ‘রোম্যান্স কিং’ খেতাব যে এমনি এমনি কেউ পায় না, তার প্রমাণ ডিডিএলজে, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, দিল তো পাগল হ্যায়—যেখানে প্রেমের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন তিনি। তিন দশক ধরে বলিউডের রাজসিংহাসনে বসা সেই কিং খানের জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর প্রিয় সহ-অভিনেত্রী এবং বন্ধু জুহি চাওলা।
শাহরুখ-কাজলের জুটির মতো আলোচনায় না এলেও, শাহরুখ-জুহি জুটি দর্শকদের মন জয় করেছে রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান, ইয়েস বস, ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি থেকে ভূতনাথ—অনেক ছবিতেই। আর শুধু পর্দায় নয়, বাস্তবেও দু’জনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, এমনকি ব্যবসায়িক পার্টনারও। জুহি মনে করিয়ে দিলেন, প্রথম দেখা হয়েছিল যখন, তখন তাঁর ধারণা ছিল—এই নায়ক নাকি আমির খানের মতো দেখতে! কিন্তু সামনে পেয়ে ভুল ভেঙে যায়—‘চকোলেট বয়’ নয়, বরং দারুণ পরিশ্রমী এক টর্নেডো তিনি।
শুটিংয়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে জুহি হেসে বললেন, “শাহরুখ নতুন ছিলেন ঠিকই, কিন্তু নবাগতের মতো নন! দিনে তিনটে শিফট করতেন। কোনও দৃশ্য ঠিকমতো না এগোলে পরিচালক বলতেন—শাহরুখ এলে সব ঠিক হয়ে যাবে!” রোম্যান্স আর কমেডি মেশানো দৃশ্যে তারাই ছিল দর্শকের প্রথম পছন্দ।
আরও পড়ুনঃ উপার্জনের সমস্ত টাকা বিলিয়ে দিলেন দেব! রাখলেন না কানাকড়িও! নায়কের বিরাট পদক্ষেপ!
আর শেষে জুহির মজার সতর্কবার্তা—“শাহরুখ থেকে সাবধান থাকতে হয়! কারণ সে যা চাইবে, আপনাকে দিয়ে করিয়েই নেবে।” ডুপ্লিকেট ছবিতে কাজ করতে প্রথমে রাজি না হলেও, এসআরকে তাকে সিঁড়িতে বসিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে বোঝান—এবং জুহি রাজি! তিনি আরও বললেন, “বন্ধুত্বেও উত্থান-পতন এসেছে ঠিকই, কিন্তু নিয়তি আমাদের জুড়ে রেখেছে—আইপিএলও সেই বন্ধনের সেতু।” কিং খানের ৬০ বছরের এই অসাধারণ যাত্রায়, জুহির কথাই যেন সবচেয়ে মানানসই—শাহরুখ এমন এক শক্তি, যার মোহ অস্বীকার করার ক্ষমতা কারও নেই!





