‘রোজ হাউহাউ করে কাঁদতাম, ইরা আমায় সামলাত’ — অবসাদের অন্ধকারে বিজয় বর্মার পাশে ছিলেন আমির-কন্যা

করোনার সেই নিঃসঙ্গ দিনগুলিতে জীবনের গভীরতম অন্ধকারের মুখ দেখেছিলেন অভিনেতা বিজয় বর্মা। এক সময়ের প্রাণবন্ত, হাসিখুশি মানুষটি হয়ে উঠেছিলেন নিঃশব্দ, নির্জন। দিন কেটে যেত সোফায় বসে, চোখের জলেই যেন মিশে যেত সময়। কখনও একবেলা না খেয়ে, কখনও টানা তিন-চার দিন বিছানা ছেড়েও উঠতে পারতেন না। অভিনেতার নিজের কথায়, “ও না থাকলে আজকের ‘আমি’ হয়তো থাকতই না।” সেই ‘ও’ হলেন আমির খানের মেয়ে, অভিনেত্রী ইরা খান।

মুম্বইয়ের ছোট ফ্ল্যাটে তখন একা বিজয়। চারদিক নিস্তব্ধ, কেবল ফাঁকা ঘর আর গুমোট নীরবতা। মাঝেমধ্যে জ়ুম কলে বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা, কিন্তু তাতে মন ভরত না। ঘন ঘন মনে পড়ত নিজের বাড়ি, পরিবার, সেই শিকড়ের টান। মন কাঁদত, অপরাধবোধে ভরে উঠত। বারবার মনে হত, নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য কি পরিবারের ভালোবাসাকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি? এই আত্মভর্ত্সনা আর নিঃসঙ্গতার মিশেলই তাঁকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল অবসাদের গভীরে।

তাঁর এই পরিবর্তন প্রথম টের পান ইরা খান। ‘দহাড়’ সিরিজে একসঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই ইরা বুঝেছিলেন, বিজয়ের হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর এক বিষাদ। তিনি খোলাখুলি বলেন, “তুমি অবসন্ন। একজন মনোবিদের সঙ্গে কথা বলো, সব ঠিক হয়ে যাবে।” শুরুতে দ্বিধা থাকলেও পরে বিজয় সাহস করে মনোবিদের পরামর্শ নেন। ওষুধ না খেয়ে নিজের নিরাময়ের পথ হিসেবে বেছে নেন যোগাভ্যাস।

অভিনেতা জানান, “যোগের আসনে শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। মনে হত বুকের ভার হালকা হচ্ছে।” সেই কঠিন সময়ে ইরা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। ইরা বোঝান, “শৈশবের যন্ত্রণা, চাপা কষ্ট — সব কিছুই অবচেতনে থেকে যায়। সেগুলিই একসময় ফেটে বেরোয়, মানুষকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়।”

সম্প্রতি অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে বিজয় অকপটে খুলে বলেন জীবনের সেই অধ্যায়। অবসাদ, ভয়, অন্ধকার— সবকিছুর মধ্যে দিয়ে নতুন করে নিজেকে চিনেছেন তিনি। আর জানালেন, “আজ যে আমি আবার হাসতে পারি, কাজ করতে পারি— তার কৃতিত্ব অনেকটাই ইরার।”