গান গাইতে গাইতেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন গায়ক! মৃ’ত্যুর আগে কোন গানটি গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়?

‘মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে’ হেমন্ত মুখার্জির এই গান বাঙালির বুকে আজও হয়ে আছে অমর অক্ষয়। ৬০ কিংবা ৭০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক ছিলেন হেমন্ত মুখার্জী ( Hemanta Mukherjee)। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলের স্বপ্ন ছিল গায়ক হবার। পরবর্তীকাল গানের প্রতি সাধনা এবং ভালোবাসা থাকায় ১৯৪১ সালে প্রথম বাংলা সিনেমার জন্য গান রেকর্ড করে, সিনেমার নাম ‘নিমাই সন্ন্যাস’।

এই কিংবদন্তী শিল্পী ১৯৮৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, বাংলার সিনে জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাংলার গায়কদের প্রথম সারির তালিকায় আজীবন রয়েছে যাবে হেমন্তবাবুর নাম। শুধুমাত্র বাংলা সিনেমা জগতেই নয় বলিউডে ও ছিল তার বেশ নামডাক। শোনা যায়, প্রাণের থেকেও তিনি গানকে বেশী ভালোবাসতেন। তাই, মৃত্যুর আগে অবধিও তিনি গান রেকর্ড করেছিলেন। বুকে বসেছিল পেসমেকার শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও, ছাড়েনি গান গাওয়া।

এই কিংবদন্তী গায়কের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হল- সূর্য ডোবার পালা’, ‘মুছে যাওয়া দিনগুলি’, ‘তারে বলে দিও’, ‘রানার’, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’আরও অনেক গান আজও বাংলার শ্রোতাদের কাছে অবিস্বরণীয়। গান পাগল মানুষ হইল জীবনের শেষ অধ্যায় গান গাওয়ার সুযোগ এলেও গান গাইতে পারতেন না বলতেন, “এখন দম পাই না, ফাংশানে অনেক বাজনা থাকে তাই গলার হেরফের তেমন ধরা পরে না। কিন্তু রেকর্ডিং যন্ত্র তো আপস করতে জানে না। ভয় হয়, আমার জন্য না কোনো প্রযোজক বা পরিচালকের ক্ষতি হয়ে যায়।”

জীবনের শেষ বছর তাই কেবল বিরোধী রেখেছিল গান রেকর্ড করার থেকে। শুধু সলিল চৌধুরীর অনুভূতি একটি মাত্র বাংলা সিনেমায় অর্থাৎ হারানের নাত জামাই সিনেমাতে গান গাইতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। সলিলবাবু এবং হেমন্ত বাবু শেষ কাজ হয় এই সিনেমাতে। গান রেকর্ডিং করা হয়নি ঠিকই তবে এই গায়ককে গানের থেকে কেউ দূরেও রাখতে পারেনি। জীবনের শেষ দিন অবধি ফাংশনে গান গেয়ে গেছেন ‘ও আকাশ সোনা সোনা’র গায়ক।