টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার বহু বছর ধরেই দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, সর্বত্র তার অভিনয়ের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু বলিউডে কাজ করতে গিয়ে এক সময় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা আজও তাকে শিউরে তোলে। এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রাণী নিজেই তুলে ধরেছিলেন সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা।
ঘটনাটি অনেক বছর আগেকার। তখন ইন্দ্রাণীর বয়স মাত্র কুড়ি। সদ্য বলিউড থেকে কাজের ডাক এসেছিল তার কাছে। প্রথম শিডিউলে তিনি মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন মুম্বইয়ে। দু’জনকে রাখা হয়েছিল ভালো হোটেলে। কিন্তু দ্বিতীয় শিডিউলের সময় অদ্ভুতভাবে আলাদা করে টিকিট কাটা হয়—ইন্দ্রাণীর সকালবেলার, আর তার বাবার বিকেলের। সেই কারণেই একা হোটেলে থাকতে হয়েছিল তাকে। আর সেখানেই ঘটে যায় সেই দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা।
ইন্দ্রাণী জানান, সেদিন দুপুরে হঠাৎ প্রযোজক ফোন করে দেখা করতে চান। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো কাজের কোনো আলোচনা হবে। কিন্তু ঘরে ঢুকেই প্রযোজক অসভ্য আচরণ শুরু করেন। ইন্দ্রাণীর হাত ধরে টানাটানি করেন, এমনকি নিজের পোশাক খোলারও চেষ্টা করেন। আচমকা পরিস্থিতি দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন তিনি। মনে হয়েছিল, আর বোধহয় বাঁচবেন না।
ঠিক সেই সময়েই আশীর্বাদের মতো ফোন আসে প্রযোজকের স্ত্রীর। সেই ফোনের কারণে সাময়িকভাবে থেমে যায় সবকিছু, আর সুযোগ পেয়েই নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন ইন্দ্রাণী। তবে যাওয়ার সময়ও প্রযোজক তাকে হুমকি দেন। বলেন, বড় নায়িকারা নাকি সহজেই আপস করে ফেলেন, তাই তারা সফল হন। ইন্দ্রাণী রাজি না হওয়ায় তার জীবনে উন্নতি হবে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সাইবার ক্রাইমে জড়াল শ্রুতি, অভিনেত্রীকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল আরাত্রিকা! নতুন গল্প নিয়ে পর্দায় জি-এর দুই নায়িকা!
কিন্তু বাস্তব অন্যরকম লিখেছিল ইন্দ্রাণীর জীবনে। সেই ঘটনার পর আর কখনোই তিনি নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেননি। মুম্বই হোক বা কলকাতা, পরিশ্রম আর প্রতিভার জোরে তিনি গড়েছেন নিজের কেরিয়ার। টানা তিন দশক ধরে তিনি প্রমাণ করেছেন, আপস না করেও শিল্পী হিসেবে দাপটের সঙ্গে কাজ করা যায়। তবে হোটেলের সেই বন্ধ ঘরে ঘটে যাওয়া দিনের কথা আজও তার মনে দাগ কেটে রয়েছে।





