মেয়ের বিয়ের পরই বিচ্ছেদ! বার্ধক্য বয়সে একাকী কাটছে জীবন! ৯২ তম জন্মদিনে স্বামীর পাশে মাধবী!

বাংলা বিনোদন জগতে স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদের কাহিনী নতুন নয়। কখনও পরকীয়ার জেরে আবার কখনও মনের অমিলের কারণে টলি কাপেলদের মধ্যে এসেছে দূরত্ব। ভেঙেছে তাদের সুখের সংসার। টলিপাড়ার এমনই এক জুটি হলেন নির্মল কুমার (Nirmal Kumar) এবং মাধবী মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee)। ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, চারুলতা হিসাবেই যিনি আজও আমাপর সিনে প্রেমীর মনে ঘর করে রয়েছেন।

কোন কোন সিনেমায় অভিনয় করেছেন নির্মল কুমার?

অন্যদিকে বাংলার খ্যাতনামা অভিনেতা নির্মল কুমার। একনদীর গল্প, বাঞ্ছারামের বাগান, আতঙ্ক, লালপাথর, ক্ষণিকের অতিথি, অন্তর্ধান, বিলম্বিতলয়, বনপলাশের পদাবলী, এখনই, লাঠি, বাজি, সপ্তমী প্রভৃতি সিনেমায় নজরকাড়া অভিনয় করে দর্শকদের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা। বিশেষত, কমললতা সিনেমায় সন্মানিত হয়েছেন বাংলা ফিল্ম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডে। উত্তম কুমারকে ছাপিয়ে গিয়েছিল তার অভিনয়। মুসলিম কবির সরল চরিত্রে তিনি জিতে নিয়েছিলেন আপামর বাঙালি দর্শকের মন।

Bengali actor, Bengali actress, Bengali Cinema, Madhabi Mukherjee, Nirmal Kumar, Tollywood, টলিউড, নির্মল কুমার, বাংলা সিনেমা, বাঙালি অভিনেতা, বাঙালি অভিনেত্রী, মাধবী মুখোপাধ্যায়



নির্মল কুমারের সঙ্গে ২৫ বছর সংসার করেছেন মাধবী মুখোপাধ্যায়

বর্তমানে ৯৫ বছর বয়সে তার সঙ্গী একাকিত্বতা। জানা গেছে, একটি অনুষ্ঠানে নির্মল কুমার বিয়ের প্রস্তাব দেন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়কে। ভদ্র, নম্র, সুন্দর স্বভাবের নির্মল কুমারকে দেখে মুগ্ধ হন অভিনেত্রী। বিয়ে করেন তারা। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে কাটিয়েছেন তারা। দুটি মেয়েও আছে তাদের। একজন স্কুল শিক্ষিকা, একজন কলেজের অধ্যাপিকা। তবে দুই মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে বিয়ে দিয়ে আলাদা হবার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

স্বামী নির্মল কুমারের ৯২ তম জন্মদিনে পাশে স্ত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়

শোনা গেছে, মতের অমিলের কারণের আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা যদিও ডিভোর্স হয়নি তাদের। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কগুলোতে ধুলো পড়তে দেননি তিনি। এখনও তিনি সিঁদুর পড়েন স্বামীর মঙ্গলে, মেয়ের জন্মদিন, পুজো, জামাইষষ্ঠী সবই একসাথে কাটান তারা। স্বামীর অসুস্থতার ছুটে যান, যত্নও করেন তার কিন্তু পৃথক বাড়িতে থাকেন দুজনেরই। বর্তমানে লেক উইন্ডো আবাসনে নিজের মতো করে একা থাকেন এই। বর্ষীয়ান অভিনত্রী। বছর কয়েক আগে করোনা আবহে ঘরবন্দিই ছিলেন তিনিও।

আরও পড়ুন: ছদ্মবেশে সেনগুপ্ত বাড়িতে ঢুকে পড়ল ভিক্টর! নিজের মেধা দিয়ে ঋত্বিকের মুখে ঝা’মা ঘষে দিল দীপা!


তবে মেয়ে, নাতি-নাতনিদের আবদারে স্বামীর জন্মদিনে উপলক্ষে মেয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। কেক কেটে একসঙ্গে উদযাপন করেন। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেই ভাইরাল হয়ে যায়। ঘি-য়ে রঙের চাদর পরে একগাল হাসি নিয়ে স্বামীর পাশে একদম বাঙালি গিন্নীর রূপে দেখা যাচ্ছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই আপ্লুত হয়ে পড়েন বাঙালি নেটিজেনরা। তবে এক বাড়িতে না থাকলেও জীবনের সমস্ত বিষয় দিনগুলো আজও একসঙ্গেই কাটান টলিপাড়ার এই দম্পতি।